লক্ষ্মীপুরে জাতীয় পার্টির সভায় মারামারি ও ভাঙচুর, আহত ১৫

লক্ষ্মীপুরে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই মারামারি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শেখ ফায়িজ উদ্দিন শিপনসহ দুই পক্ষের অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৩ মার্চ) দুপুরে শহরের ওয়েলকাম চাইনিজ রেস্টুরেন্টে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। বিকেল পর্যন্ত সেখানে উত্তেজনা ছিল।
এই ঘটনার, খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হামলার শিকার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শেখ ফায়িজ উদ্দিন শিপনের ভাষ্যমতে, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক এম আর মাসুদ, আনোয়ার হোসেন বাহার ও আরিফরা পরিকল্পিতভাবে তার নেতাকর্মীদের মারধর করেন।
তিনি আরো বলেন,হামলাকারীরা তার লোকজনকে রেস্টুরেন্টের ভেতরে যেতে দেননি। তিনি আইনের আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, ১১ মার্চ লক্ষ্মীপুর-২ আসনে উপ-নির্বাচন। কুয়েতে সাজাপ্রাপ্ত কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল এ আসনের এমপি ছিলেন। আসনটি শূন্য ঘোষণা করে তফসিল দেওয়ায় সেখানে দলের এমপি মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন মাসুদ ও শিপন। তারা আলাদা তদবিরও চালাচ্ছেন। মনোনয়ন দ্বন্দ্বের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও নোয়াখালী জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন মিঠুও মনোনয়নপ্রত্যাশী।
দলীয় সূত্র জানায়, জেলা কমিটির পূর্ব নির্ধারিত সাংগঠনিক সভায় প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, জাপা নেতা আলমগীর শিকদার, নাজমা রহমান, ইলিয়াছ আহমদ ও জেলা কমিটির সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমানসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। মারামারি, ভাঙচুর, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর কয়েকজন নেতাকে ঘটনাস্থলে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
আহতরা হলেন—আকবর হোসেন, মো. সুমন, জাবেদ হোসেন, আবদুল মিয়া, শরিফ উদ্দিনসহ ১৫ জন। তারা রায়পুরসহ বিভিন্ন শাখার নেতাকর্মী। এরমধ্যে কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
রেস্টুরেন্টের মালিক মো. ইউসুফ জানিয়েছেন, জাপা নেতা মাসুদ রেস্টুরেন্ট বুক করেছিলেন। উত্তেজিত নেতাকর্মীরা ঘটনার সময় ভেতরে ভাঙচুর করেন। এতে তার অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জরিমানার জন্য একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে তালা দিয়ে রেখেছি।
এ ব্যাপারে এম আর মাসুদ সংঘর্ষের জন্য শিপন ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ এনেছেন।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শিপন বড়ুয়া জানান, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ব্যাপারে কেউ থানায় অভিযোগ করেননি।