পটুয়াখালীতে বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন/এক ঘন্টার মধ্যে খুনি গ্রেফতার…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ছবিঃ সংগৃহীত

পটুয়াখালীর বাউফলে বাল্যবন্ধুর হাতে শাওন খন্দকার (২৫) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী খুন হয়েছেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বিলবিলাস বাজার এলাকায় ঘটা এ ঘটনায় ঘাতক রাজিবকে (২৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

নিহত শাওন বিলবিলাস গ্রামের জাকির হোসেন সেন্টুর ছেলে। সে টঙ্গী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের এমএসএস বিভাগের ছাত্র ছিলো।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, নিহত শাওন ও রাজিব ছোট বেলার বন্ধু। এক সঙ্গেই পড়াশুনা করেছে তারা। করোনার লকডাউনে মাস দুয়েক আগে বাড়িতে আসে শাওন। তবে রাজীব একাধিক খুন ও ধর্ষণ মামলার আসামি। সম্প্রতি ঢাকার ইস্কাটনে মা-মেয়ে ধর্ষণের পর খুনের ঘটনায় ৫ নম্বর আসামি রাজিব।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,ভিকটিম শাওন খন্দকার (২৮) এর বাড়ি বাউফল থানার বিলবিলাসে। মাস্টার্সে পড়ালেখার পাশাপাশি গাজিপুরের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে সে। অপরদিকে আসামি রাজিব রাজা (২৮) বাউফল থানার মদনপুরা গ্রামের বাসিন্দা। সেও ঢাকায় থাকে।

রাজিব স্বভাবে কিছুটা উগ্র মেজাজের, অতি সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে হুটহাট রেগে যায়। সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের কারণে কাজ বন্ধ থাকায় দুইজনই বাড়িতে চলে এসেছে। অবসর সময় কাটানোর জন্য মাঝে মধ্যে বিলবিলাস বাজারে বসে আড্ডা দেয় তারা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,২৪ আগস্ট ২০২০ তারিখ, সকাল আনুমানিক ১১.০০ ঘটিকা। বিলবিলাস বাজারস্থ আল আমিন সর্দারের হোটেলে সিঙ্গাড়া খাচ্ছিল রাজিব। এ সময় শাওনও সেখানে গিয়ে বসে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দুজনের মধ্যে গল্প জমে উঠে।

কিন্তু, আগের দিন (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় শাওনের চোখে টর্চ লাইটের আলো ফেলে পাশের মদনপুরা গ্রামের ফয়েজ রাজার ছেলে রাজীব। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় রাজিব ও শাওনের মধ্যে। এক পর্যায়ে রাজিব টর্চ লাইট দিয়ে আঘাত করে শাওনের মাথায়। উপস্থিত লোকজনের হস্তক্ষেপে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক উভয়ে নিবৃত হলেও আজ সকালে বিলবিলাস বাজারের একটি চায়ের দোকানে পুন:রায় কথাকাটি হয় শাওন ও রাজিবের মধ্যে।

কিন্তু,কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উত্তেজিত ও মারমুখী হয়ে উঠে রাজিব। এ সময় রাজিব প্রথমে টেবিলে থাকা কাঁচের গ্লাস ভেঙ্গে শাওনের গলায় আঘাত করে। পরবর্তিতে তার কাছে থাকা ছুরি দিয়ে শাওনের পেটে একাধিক আঘাত করে। ঘটনা দেখে আশপাশের লোকজন রাজিবকে বাধা দিতে আসলে তাদেরকেও প্রাণ নাশের হুমকি দিতে দিতে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় সে।

এদিকে,গলায় ও পেটে উপর্যপূরী আঘাতের কারনে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে শাওনের। ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন শাওনকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে, অত্যধিক রক্তক্ষরণের কারনে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার শাওনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এ নৃশংস হত্যাকান্ডের সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে বাউফল থানা পুলিশের একটি দল অতিদ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। ঘটনাস্থল থেকে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে দ্রুত আসামি গ্রেফতারের কাজে নেমে পরে দলটি।

গোপন সূত্রে তারা জানতে পারে যে আসামি রাজিব তার বাড়িতেই লুকিয়ে আছে। উক্ত সংবাদ পেয়ে তাকে গ্রেফতার জন্য তার বাড়ি ঘিরে ফেলে পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামি রাজিব তার বাড়ির পেছনে ধান ক্ষেতের ভিতর দিয়ে পাশের গ্রামে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে।

কিন্তু, পুলিশ তাকে দেখে ফেলে তার পিছু ধাওয়া করতে থাকে। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে আসামি রাজিব এক পর্যায়ে ধান ক্ষেতের পাশের বিলের মধ্যে নেমে পড়ে। পুলিশ সদস্যগণও আসামি গ্রেফতারের জন্য বিলের পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বিলের গলা পানিতে নেমে ধাওয়া করে শেষ পর্যন্ত আসামি রাজিবকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

বাউফল থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ‘অভিযুক্ত রাজিবকে পুলিশ তার বাড়ির পিছনের প্রায় গলা পানির ডোবা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।’

এসি/বিবিএন /স্টাফ রিপোর্টার


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published.