সিনহা হত্যাঃ আদালতে লিয়াকতের স্বীকারোক্তি

  • 18
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    18
    Shares

আজ রোববার (৩০ আগস্ট) ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ’র আদালতে এই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন প্রধান আসামী বাহার ছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বরখাস্ত এসআই লিয়াকত আলী।।
জবানবন্দি শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাবের এসএসপি খায়রুল ইসলাম।

আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা সম্পর্কে মামলার উল্লেখিত তথ্য-উপাত্ত তথা এই হত্যার সত্যতা স্বীকার করেছে মামলার প্রধান আসামী বাহার ছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বরখাস্ত এসআই লিয়াকত আলী।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাবের এসএসপি খায়রুল ইসলাম জানান, সিনহা হত্যা মামলার প্রধান আসামী রিমান্ডে যা স্বীকার করেছেন আদালতের কাছেও তা স্বীকার করেছেন। মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলার তথ্য-উপাত্ত সম্পর্কে নিজের সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করেছেন লিয়াকত আলী।
তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, মামলার প্রধান আসামী লিয়াকত আলী জিজ্ঞাসাবাদে সিনহা হত্যা সম্পর্কে র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে যা স্বীকার করেছে আদালতের কাছেও একই স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

মামলায় তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের একদিন পরই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে প্রধান আসামী বরখাস্ত এসআই লিয়াকত আলীকে আদালতে আনা হয়।

আজ রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে জবানবন্দিতে তাকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে আনা হয় এবং বিকাল ৫টার দিকে তার জবানবন্দি রেকর্ড সম্পন্ন হয়।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার তৃতীয় দফায় বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, এসআই লিয়াকত আলী, এএসআই নন্দদুলাল রক্ষিতের তৃতীয়বারের মতো তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

তৃতীয় দফায় তিনের রিমান্ড মঞ্জুরের একদিন পরই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার জন্য বরখাস্ত এসআই লিয়াকত আলীকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে আদালতে আনা হয়।

র‌্যাব সূত্র মতে, আত্মসমর্পণের পর গত ৬ আগস্ট ওসি প্রদীপ, লিয়াকত ও নন্দদুলালসহ সাত পুলিশের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
সাত দিনের রিমান্ড শেষে দ্বিতীয় দফায় ২৪ আগস্ট আরো সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিল র‌্যাব।

আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। ওই চার দিন রিমান্ড শেষ হলে তদন্তের স্বার্থে তৃতীয় দফায় আরো চার দিনের আবেদন করা হলে গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) আদালত তাদের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এ মামলায় এ পর্যন্ত সাত পুলিশ সদস্য, এপিবিএনের তিন সদস্য ও টেকনাফ পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষীসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এপিবিএনের তিন পুলিশ সদস্য পৃথকভাবে বুধ ও বৃহস্পতিবার আদালতে ১৬৪ ধারা মতে জবানবন্দি দেন। যার কারণে এ তিন পুলিশ সদস্য কারাগারে রয়েছেন।

গত ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহা মো. রাশেদ খানের বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। এতে ৯ জনকে আসামি করা হয়। পরে আরো ছয়জনকে আসামী করা হয়। দুইজন ছাড়া সব আসামী গ্রেফতার হয়েছে।

অপরদিকে গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ওসি প্রদীপের জামিনের জন্য চট্টগ্রাম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী এহেছানুল হক হেনার নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি আইনজীবীর প্রতিনিধি দল কক্সবাজার আদালতে হাজির হয়ে রিমান্ডের বিরোধিতা করেন এবং জামিনের আবেদন করেন। তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে দেন আদালত।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি ও রামু থানায় একটি মামলা করে।

স্টাফ রিপোর্টার/বিবিএন


  • 18
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    18
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published.