অনলাইন নিবন্ধন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কৌশলঃ টিআইবি

  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

গতকাল এক বিবৃতিতে এ আশঙ্কার কথা প্রকাশ করা হয়।টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশের সমস্ত অনলাইন সংবাদ মাধ্যম- এমনকি দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশন চ্যানেলের অনলাইন পোর্টালকে নতুন করে নিবন্ধনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের তরফে, এই নির্দেশ নিবন্ধিত সংবাদমাধ্যমগুলোকে সরকারি সুযোগ সুবিধার আওতায় আনা এবং অপসাংবাদিকতা রোধের কৌশল বলা হলেও মূলতঃ এটি দেশের গণমাধ্যমের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণের প্রাতিষ্ঠানিকিকরণ নিশ্চিত করবে। দেশে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা বিদ্যমান থাকার পরও পৃথক নিবন্ধনের এই নির্দেশ সাংবাদিকতার স্বার্থে নাকি গণমাধ্যমকে চাপে রেখে সরকার ও স্বার্থান্বেষী মহলকে সমালোচনা ও জবাবদিহিতারি ঊর্ধ্বে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা- এ প্রশ্ন আসাটা অবান্তর নয়।

সংবিধান স্বীকৃত অবাধ তথ্য প্রবাহ ও মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিতে যেখানে গণমাধ্যমগুলোকে আরো শক্তিশালী ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করাটাই প্রত্যাশিত, সেখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি, সরকার অবাধ তথ্য প্রবাহের সাংবিধানিক অধিকার হরণকে আইনি কাঠামোর অধীনে নিয়ে আসার একের পর এক উদ্যোগ নিচ্ছে। এটা কোনোভাবেই আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না যে, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে যেখানে স্বচ্ছতা- জবাবদিহিতা নিশ্চিতের অঙ্গীকার করা হচ্ছে, সেখানে একই সঙ্গে কিভাবে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে সাহসী সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার মতো উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে!

জাতীয় সম্প্রচার কমিশন এবং অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তার আগেই দেশের সমস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং জাতীয় পত্রিকা ও টেলিভিশনের অনলাইন সংস্করণসমূহ পৃথকভাবে নিবন্ধন করতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নির্দেশ সংবাদমাধ্যমের ওপর সরকারের সর্বাত্মক নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, এই নির্দেশ মূলত গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সরকারি বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের অপচেষ্টা বাস্তবায়নের পথে আরো এক আত্মঘাতী পদক্ষেপ।

ড. জামান আরো বলেন, অনলাইন গণমাধ্যমের নামে সাংবাদিকতাকে ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের সুযোগ রোধ করুন; পাশাপাশি অনলাইন মাধ্যমে মুক্ত সাংবাদিকতার পথটাও উন্মুক্ত রাখুন। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের কষ্টার্জিত অধিকার ভুলুণ্ঠিত করবেন না। অন্যথায় ‘অবাধ তথ্য প্রবাহ’, ‘স্বাধীন মত প্রকাশ’, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এসব শব্দমালা শুধু কাগুজে ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকবে, যা কোনো কল্যাণকামী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিচয় হতে পারে না।

টিআইবি আশা করে, তথ্য মন্ত্রণালয় প্রচলিত আইনের আওতায় প্রকাশিত পত্রিকা ও টেলিভিশনের অনলাইন পোর্টালগুলোর জন্য পৃথক নিবন্ধনের নির্দেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করবে। সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের হীন পরিকল্পনা বাদ দিয়ে তথ্যের অবাধ প্রবাহের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক ধারাসমূহ বাতিল করাসহ আরো কার্যকর ও ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। পাশাপাশি ভুঁইফোঁড় অনলাইন পোর্টাল ও সাংবাদিকতা চর্চার বিপরীতে ব্যক্তিস্বার্থে প্রকাশিত নামসর্বস্ব কথিত অনলাইন মাধ্যম ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করে মুক্ত ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ মসৃণ করবে।


  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

Leave a Reply

Your email address will not be published.