জয়ের দেখা পেল পাকিস্তান

  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

পাকিস্তান ইংল্যান্ডে এসেছে সেই জুন মাসে। করোনাকালে ক্রিকেট খেলতেই একটু আগেভাগে আসতে হয়েছিল দলটিকে। জৈব-সুরক্ষিত পরিবেশে প্রথম ম্যাচ জিততে সেই দলটিকে অপেক্ষা করতে হলো ৬৬ দিন। কাল রাতে ওল্ড ট্রাফোর্ডে সফরে নিজেদের শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৫ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটা ড্র করেছে বাবর আজমের দল।

৫২ বলে ৮৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা মোহাম্মদ হাফিজ। তবে ৩৯ বছর বয়সী ‘প্রফেসর’ ম্যাচ শেষে প্রশংসায় ভাসালেন তাঁর থেকে বয়সে ২০ বছরের ছোট হায়দার আলীর জন্য। প্রশংসা না করে অবশ্য উপায় ছিল না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকেই যে ব্যাটিং দিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেছেন হায়দার।

১৯ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান তিনে নেমে খেলেছেন ৫৪ রানের দারুণ এক ইনিংস। জাতীয় দলে ঢোকার আগেই ‘নতুন বাবর আজম’ তকমা জুটিয়ে ফেলা ডানহাতি ৫৪ করতে খেলেছেন ৩৩ বল, মেরেছেন ৫টি চার ও ২টি ছক্কা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি অভিষেকে এই প্রথম কোনো পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান ফিফটি পেলেন।

হায়দার।ছবি:সংগৃহীত

পাকিস্তান করেছিল ৪ উইকেটে ১৯০ রান। পুরো ২০ ওভার খেলে ইংলিশরা করতে পারে ৮ উইকেটে ১৮৫ রান। হায়দার কাল উইকেটে আসেন দলকে ২ রানে রেখে ওপেনার ফখর জামানের বিদায়ের পর। ‘নতুন বাবর আজম’কে রেখে দলীয় ৩২ রানের ফিরে যান ‘আসল’ বাবর আজমও। এরপরই হাফিজকে নিয়ে ঠিক ১০০ রানের জুটি গড়ার পর ক্রিস জর্ডানের ইয়র্কারে বোল্ড হায়দার।

ছবি:সংগৃহীত

ম্যাচ শেষে ম্যাচসেরা ও সিরিজসেরার পুরস্কার জেতা হাফিজ সব প্রশংসা বরাদ্দ রাখলেন হায়দারের জন্যই, ‘চাপের মুখে ভালো খেলেছে সে, নিজেকে মেলে ধরেছে। আমি শুধু তাকে সমর্থন দিয়ে গেছি। তাকে বারবার বলেছি ‘‘তুমি দারুণ খেলছ, এভাবেই চালিয়ে যাও।’’ আমাদের ক্রিকেট কাঠামো থেকে তরুণ এক খেলোয়াড়ের উঠে আসা ও ভালো করতে দেখাটা দারুণ ব্যাপার।’

রান তাড়ায় ৬৯ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। সেখান থেকেই দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলেন মঈন আলী। ৭ রানে সরফরাজ আহমেদের সৌজন্যে অবিশ্বাস্যভাবে স্টাম্পিংয়ের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া অলরাউন্ডার শেষ পর্যন্ত ফেরেন ৬১ রানে ১৯তম ওভারে। ওয়াহাব রিয়াজকে ফিরতি ক্যাচ দিয়েছেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ফিফটি পাওয়া মঈন। ওই ওভারের প্রথম বলেই ক্রিস জর্ডানকে রানআউট করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন রিয়াজ।

হাতে ২ উইকেট নিয়ে ৬ বলে ১৭ রানের সমীকরণ মেলাতে শেষ ওভারটা খেলতে নামে ইংল্যান্ড। চার বল পর সমীকরণটা দাঁড়ায় দুই বলে ১২ রানের। এমন সময়েই পেসার হারিস রউফের বলে ছক্কা মেরে দেন টম কারেন। আরেকটি ছক্কা হলেই জিতে যাবে ইংল্যান্ড, এমন সমীকরণে একটু মেজাজ হারিয়েছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম।

শেষ বলে ইয়র্কার দিয়ে অধিনায়কের মেজাজ ঠান্ডা ও দলকে জয় এনে দেন রউফ। ওই বলে ব্যাটে-বলেই করতে পারেননি টম কারেন। ম্যাচশেষে মুহূর্তটার কথা মনে করেছেন বাবর, ‘আমি বোলারকে ইয়র্কার করতে বলেছিলাম। আগের বলটা কী বাজেই না করেছিল সে। তবে খেলায় এ রকম তো হতেই পারে।’

ইংল্যান্ডকে আবার আগামীকালই মাঠে নেমে পড়তে হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজটা শুরু হচ্ছে সাউদাম্পটনে।

রুউ/স্টাফ রিপোর্টার/বিবিএন


  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

Leave a Reply

Your email address will not be published.