আবরার হত্যা : অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বী (২২) হত্যা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের শুনানি শুরু করেছে ট্রাইব্যুনাল।

আবরার।ছবি:সংগৃহীত

গত ২রা সেপ্টেম্বর, বুধবার ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে দুপুর ১২টায় এই শুনানি শুরু হয়। যা বেলা ৩টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকার পর শেষ না হওয়ায় আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানি দিন ঠিক করেছেন বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান।

এদিন প্রথমে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল ও প্রসিকিউটর মো. আবু আব্দুল্লাহ ভূঁইয়া ও বুয়েট কর্তৃক নিয়োগকৃত প্রসিকিউটর এহসানুল হক সমাজী চার্জগঠনের প্রস্তাব ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন।

শুনানিতে কাজল বলেন, গর্বিত, অহংকারী ছাত্র সংগঠন এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গড়া ছাত্রলীগের কর্মী আমরাও ছিলাম। আমাদের মন্ত্র শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি। কিন্তু আমরা সহনশীল না হয়ে আক্রমনাত্মক কাজ করতে বদ্ধ পরিকর। মনে করি, ক্ষমতা দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো। ভিকটিম আবরারকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে পিটিয়ে হত্যা করেছে আসামীরা। পানিও দেয়নি ওরা। জাতি বিচার চায় এবং আবরারের বাবা ও মা বিচারের অপেক্ষায়।

সমাজী বলেন, অভিযোগটি সিরিয়াস। আসামিরা নির্মমভাবে পরিকল্পিতভাবে আবরারকে হত্যা করে। এটা নৃশংস নয়, জঘন্য অপরাধ। আমাদের প্রত্যাশা যেন ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়। মামলাটিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করার যথেষ্ঠ উপাদান রয়েছে। তাই সকল আসামির বিরুদ্ধে দ-বিধির ৩০২/১০৯/৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠনের প্রস্তাব করছি।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রস্তাবের পর ১৩ আসামির পক্ষে তাদের আইনজীবীরা অব্যাহতি চেয়ে শুনানি শেষ করার পর ট্রাইব্যুনাল অপর আসামিদের পক্ষে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর চার্জশুনানির তারিখ ধার্য করেন। অব্যাহতি চাওয়া আসামিরা হলেন- মেহেদী হাসান রাসেল, অনিক সরকার, মেহেদী হাসান রবিন, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিওন, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মো. আকাশ হোসেন, মোয়াজ আবু হুরায়রা, অমিত সাহা, ইশতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, এস এম মাহমুদ সেতু ও শামসুল আরেফিন রাফাত।

মামলায় অভিযুক্ত ২৫ আসামীর মধ্যে এজাহারভুক্ত ১৯ জন এবং এজাহার বহির্ভূত ৬ জন। গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে ৮ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তদন্ত চলাকালে মামলায় অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে ২১ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা হ‌লেন- মেহেদী হাসান রাসেল, মুহতাসিম ফুয়াদ, মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার, মেফতাহুল ইসলাম জিওন, ইফতি মোশাররফ, অমিত সাহা, মুনতাসির আল জেমি, মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, আবরারের রুমমেট মিজানুর রহমান মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত, মনিরুজ্জামান মনির, আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মাজেদুর রহমান, শামীম বিল্লাহ, মোয়াজ আবু হুরায়রা, এ এস এম নাজমুস সাদাত এবং এস এম মাহমুদ সেতু। এ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্তদের মধ্যে যারা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ছিলেন সংগঠন থেকে তাদের বহিষ্কার করে।

গ্রেফতারদের ম‌ধ্যে ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, অমিত সাহা, মিজানুর রহমান মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত ও এস এম মাহমুদ সেতু ছাড়া বাকি সবাই এজাহারভুক্ত আসামি।

এর ম‌ধ্যে আটজন আদাল‌তে স্বীকা‌রো‌ক্তিমূলক জবানব‌ন্দি দেন। তারা হলেন- ইফতি মোশাররফ সকাল, মেফতাহুল ইসলাম জিওন, অনিক সরকার, মুজাহিদুর রহমান, মেহেদি হাসান রবিন, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর, মনিরুজ্জামান মনির ও এএসএম নাজমুস সাদাত।

উল্লেখ্য আবরার ফাহাদ বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) ছাত্র ছিলেন এবং বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নিচতলার ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। গত বছর ৬ অক্টোবর একই হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ছাত্রলীগের কিছু উচ্ছৃঙ্খল কর্মীর হাতে নির্দয় পিটুনির শিকার হয়ে মারা যান আবরার।এ ঘটনায় পরদিন নিহতের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি মামলা করেন।

মামলার পর ওই বছর ১৩ নভেম্বর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. ওয়াহিদুজ্জামান ২৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চলতি বছর ২১ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত চার্জশিট আমলে গ্রহণ করেন। এরপর গত এপ্রিল মাসে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ আসে এবং ৬ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে শুনানির প্রথম তারিখ ঠিক হয়। কিন্তু তার আগে করোনা ভাইসের জন্য আদালতের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় বিচার শুরু হতে পারেনি।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published.