রোহিঙ্গা নেতারা ভাসান চরের নির্মাণ কাঠামো দেখে খুশ

  • 17
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    17
    Shares

রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ভাসানচরে যে স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে, সেটি পছন্দ হয়েছে পরিদর্শনে যাওয়া রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধি দলের। দলের অধিকাংশ সদস্য ভাসানচরের আবাসন প্রকল্পের অবকাঠামো দেখে সন্তুষ্ট।

উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয়শিবির থেকে এক লাখ রোহিঙ্গাকে মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় অবস্থিত ভাসানচরে পাঠাতে চায় সরকার। এর অংশ হিসেবে ২ জন নারীসহ ৪০ জনের একটি রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদলকে ভাসানচরের অবস্থা সরেজমিনে দেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত শনিবার ভোররাতে উখিয়া ট্রানজিট পয়েন্ট থেকে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রতিনিধিদলটিকে প্রথমে চট্টগ্রাম নেওয়া হয়। সেখান থেকে দুপুরে নৌবাহিনীর জাহাজে করে দলটি ভাসানচরে পৌঁছায়। রোববার ও সোমবার এই রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের ভাসানচরের স্থাপনা ও অবকাঠামোগুলো ঘুরিয়ে দেখানো হয়।

ভাসানচর পরিদর্শনে যাওয়া রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদলে রয়েছেন বিভিন্ন ক্যাম্পের হেড মাঝি, মাঝি ও মসজিদের ইমাম। তাঁরা ভাসানচর পরিদর্শন শেষে কক্সবাজার ফিরে রোহিঙ্গাদের কাছে সেখানকার অবস্থা বর্ণনা করবেন।।

রোহিঙ্গা প্রতিনিধি দলের সদস্য মোস্তফা বলেন, ‘আমরা সবাই গাড়িতে করে ভাসানচরে বিভিন্ন অবকাঠামো ও এলাকা ঘুরে দেখেছি। সাগরের বুকে জেগে ওঠা এই চরে গড়ে তোলা স্থাপনা ও অবকাঠামোগুলো ভালো লেগেছে। এখানে নিরাপত্তার পাশাপাশি মনোমুগ্ধকর পরিবেশ রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এই চরে নির্মাণ করা হয়েছে খাদ্যগুদাম, সাইক্লোন শেল্টার, মসজিদ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্কুল, খেলার মাঠ, বাজার, কবরস্থান ও মাছ চাষের পুকুর। রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির বাগান। সবই তাঁরা ঘুরে দেখেছেন। পাশাপাশি সাগরের তীরে কেওড়াবাগান ও টেকসই বেড়িবাঁধ দেখে অনেকে মুগ্ধ হয়েছেন।

প্রতিনিধিদলে থাকা অপর একজন রোহিঙ্গা নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘গত দুই দিনে পাঁচ-ছয় ঘণ্টায় আমরা ভাসানচর ঘুরে দেখেছি। যা দেখেছি সবই ভালো লেগেছে। এখানে আমাদের খুব ভালো আপ্যায়নও করানো হচ্ছে। তবে সাগরের মাঝখানে একটা জায়গা হওয়ায় মনে একটু ভয় লেগেছিল। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ভাসানচর নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র দেখানোর মাধ্যমেও বিভিন্ন বিষয় আমাদের অবগত করেছে।’

চট্টগ্রাম থেকে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদলকে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া নৌবাহিনীর জাহাজের কর্মকর্তা কমোডর মামুন জানান, গত শনিবার সন্ধ্যার আগে তাঁরা ভাসানচরে পৌঁছেন। পরদিন সকাল থেকে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা আবাসন প্রকল্পের একাংশের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন। রোহিঙ্গাদের জন্য গড়ে তোলা এই আবাসন প্রকল্পে সব ধরনের সুবিধা রাখা হয়েছে। এখানে কক্সবাজারের চেয়েও ভালো সুবিধা রয়েছে। ভাসানচরের পানি অসাধারণ। এত সুমিষ্ট পানি কল্পনা করা যায় না।

জানতে চাইলে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদলটিকে ভাসানচর ঘুরিয়ে দেখানো হয়েছে। দলটির সদস্যরা ভাসানচর সম্পর্কে অত্যন্ত ভালো অভিজ্ঞতা নিয়েই ফিরে আসছেন বলে তিনি মনে করেন

প্রসঙ্গত রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচরে আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় সরকার। জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাস থেকে ৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকা রক্ষায় ১৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে এক লাখ রোহিঙ্গার বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রাম। গত বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ভাসানচরের জন্য নেওয়া প্রকল্পের খরচ ৭৮৩ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা করা হয়। বাড়তি টাকা বাঁধের উচ্চতা ১০ ফুট থেকে বাড়িয়ে ১৯ ফুট করা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা বৃদ্ধিসহ জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের জন্য ভবন ও জেটি নির্মাণে খরচ হবে।

মুনতাসির চৌধুরী মাহিয়ান/ বে অব বেঙ্গল নিউজ/ স্টাফ রিপোর্টার


  • 17
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    17
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published.