জিয়ার আমল থেকেই বিচার বহির্ভূত হত্যার শুরুঃ শেখ হাসিনা

  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমের সমালোচনার আগে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সমাপনী ভাষণে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের-এর বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা সমালোচনা করব। কিন্তু যারা কাজ করে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও দেখতে হবে। মানুষ বিপদে পড়লে পুলিশকে আগে ডাকে। এমন কিছু না করা যাতে তারা ভয়ে ভীত হয়, তাদের কাজের উৎসাহটা নষ্ট না হয়। সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। এটা মাথায় রাখতে হবে।

জাতীয় পার্টির অভিযোগের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড জিয়াউর রহমানের আমল থেকে শুরু হয়েছে। আমাদের বহু নেতা-কর্মী লাশ পাওয়া যায়নি। তারপরে একেবারে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হলো। সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। কীভাবে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করব, আমরা সেই চেষ্টা করছি। পাশাপাশি আমাদের মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সন্ত্রাস নির্মূল করতে হবে। জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কথা মতো কাজ করে যাচ্ছে। তারা যথেষ্ট সফলতা অর্জন করেছে। তারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এটা করছে। সেগুলো করতে গিয়ে যদি কিছু দুর্ঘটনা ঘটে, এটা খুব অস্বাভাবিক নয়, ঘটে। তবে আমরা কাউকে ছেড়ে দিচ্ছি না। আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি।

বিরোধীদলীয় উপনেতার দেওয়া স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি বিষয়ক বক্তব্যের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, বিরোধীদলের বক্তা একটি চেয়ারের কথা বলেছেন। সেটি একটি চেয়ার নয়, একটি ইউনিট। বেশ কয়েকটি চেয়ার নিয়ে ইউনিট হয়। আর দুধের যে থার্মোমিটারের কথা বলছেন, সেটা থার্মোমিটার নয় সেটি একটি ল্যাবরেটরি। দুধের কোয়ালিটি কী থাকবে, তার জন্যই ল্যাবরেটরি তৈরি করতে যাচ্ছি। ল্যাবরেটরির দাম ধরা হয়েছে, থার্মোমিটারের নয়। তার জন্য এই দামটা। কাজেই আমি বলবো, যখন কোনও অভিযোগ আনা হবে যেন তথ্যগুলো ভালো করে নিয়ে এলে ভালো হয়।

করোনাকালে এক লাখ ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দ ॥ করোনাকালে নেওয়া সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ২১টি প্যাকেজে এক লাখ ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। তা জিডিপির ৪ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। এর বাইরেও ননএমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিশেষ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছি। প্রতিটি মসজিদ-মাদরাসায় টাকা পাঠিয়েছি। সরকারের প্রণোদনার বাইরেও আর্থিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। কোনো মানুষ যেন কষ্টে না থাকে। অর্থনীতির চাকাটা যাতে গতিশীল থাকে, আর সাধারণ মানুষ যেন কষ্ট না পায়, তার জন্য এই ব্যবস্থাটা আমরা নিয়েছি।

একের পর এক দুর্যোগ আসছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, করোনার মধ্যে এলো ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। তারপর এলো দীর্ঘমেয়াদী বন্যা। এই অবস্থায় আমি চেষ্টা করেছি দেশের মানুষের যেন কষ্ট না হয়। মানুষ যেন কোনও দুর্ভোগ না পোহায়। সেটা আমরা কাটাতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি আরো বলেন, বিপদ থেকে ভয়ে হতাশাগ্রস্ত যেন না হয়ে পড়ি। বিপদ আসবে। সেটা আমাদের মোকাবিলা করতে হবে। এর জন্য আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে। আমরা সেই প্রস্তুতি নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি।

সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে দেশের ৯৭ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে। মুজিববর্ষে আমরা শতভাগ বিদ্যুৎ দিতে পারবো। এর সঙ্গে সঙ্গে সঞ্চালন লাইন ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। যেহেতু করোনাভাইরাসে সবার জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে, এজন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি শিক্ষার্থীদের আমরা এক হাজার করে টাকা দেবো। যাতে করে তাদের কাপড়-চোপড়, টিফিন বক্স তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারে।

তিনি আরো বলেন, কোনো সংকটের সময় পিছিয়ে থাকতে আমরা পারব না। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সংকট মোকাবিলা করব। অর্থনীতির চাকা সচল রাখব। এটাই আমাদের সরকারের নীতি।

বে অব বেঙ্গল নিউজ ডটকম


  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published.