এক প্রতারক রাজাকারের মেয়ের গল্প

  • 6
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    6
    Shares

নুর নাজমা আক্তার ওরফে লুপা তালুকদার, কখনো মানবাধিকারকর্মী কখনো সাংবাদিক আবার কখনো নিজেকে রাজনৈতিক কর্মী পরিচয় দিয়ে প্রতারণা। এ প্রতারণা করাই ছিল তার মূল পেশা।

গ্রেপ্তার হওয়া লুপা তালুকদার

এই প্রতারক চাকরি দেয়ার নাম করে অনেকের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। হত্যা মামলার আসামি লুপা নিজেকে আওয়ামী পরিবারের সদস্য দাবি করলেও তার বাবা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন।

এদিকে মাত্র তিন দিনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে পটুয়াখালীর মিজানুর কাছ থেকে দুই কিস্তিতে লুপা তালুকদার হাতিয়ে নেন ১৩ লক্ষ টাকা (এই নিয়ে বিভিন্ন টেলিভিশনে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় লোপা এবং মিজানের একটি অডিও রেকর্ডিং ভাইরাল হয়েছে)। দিন মাস বছর পেরিয়ে গেল চাকরি আর হয়না যখন মিজান টাকা চাইল লুপার কাছে, উল্টো মেললো হুমকি (এ নিয়েও বিভিন্ন টেলিভিশন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও চিত্র ভাইরাল হয়েছে)।

এভাবে চাকরি দেয়ার নাম করে লুপা তালুকদার হাতিয়ে নিয়েছেন মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা। আবার তিনি নিজেকে পরিচয় দেন সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবে।

ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান

এনিয়ে ভুক্তভোগী মিজানকে সাংবাদিক প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, লোপা তালুকদার তাকে বলেছেন তার চাকরি দেওয়া ওয়ান্টু এর ব্যাপার। বিভিন্ন মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী তার হাতের মুঠোয়। তিনি বিভিন্ন সাংবাদিকদের সাংবাদিক। লুপা তালুকদার মিজানের কাছে নিজেকে সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি বলে দাবি করেন।

লুপা তালুকদারের ফেসবুক প্রোফাইল ঘুরে দেখা যায়, তিনি অগ্নি টিভি নামক একটি চ্যানেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর তার প্রোফাইলে দাবি করেন তিনি আওয়ামী পেশাজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এসব পরিচয় দিয়ে তিনি বাগিয়ে নিয়েছেন জাতীয় পুরস্কার ও।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তারা তদন্ত করে দেখবেন এই ধরনের নামের কোনো টিভি চ্যানেল আছে কিনা আর তিনি কি কি প্রতারণা করেছেন।

উল্লেখ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে অপহৃত জিনিয়া ইসলাম যে একজন পথশিশু। এই অপহৃত জিনিয়া ইসলাম কে অপহরণের মামলায় গ্রেফতার হওয়া লুপা তালুকদার এর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে আসতে থাকে বিস্তর অভিযোগ।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম সাংবাদিকদের আরো বলেন, লোপা তালুকদারের পিসি বার অতটা ভালো না। তার বিরুদ্ধে এর আগেও খুনের মামলা রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে আরো অনেক তথ্য রয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম

২০১৩ সালে পটুয়াখালীর গলাচিপায় লুপা তালুকদার ও তার পরিবারের নামে হত্যা মামলা হয়। উক্ত মামলায় তিনি রাজনৈতিক বিবেচনায় রেহাই পেয়ে যান।

তার পরিবারের খোঁজ নিয়ে জানা যায় লুপার বাবা শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন।

ডব্লিও বি বি ও / বে অব বেঙ্গল নিউজ / অনুসন্ধানী


  • 6
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    6
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published.