জনপ্রতিনিধিদের রাষ্ট্রের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্কের সুযোগ বন্ধ করতে হবে

  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

সরকারি কেনাকাটায় ই-জিপির সুফল না মেলার পেছনের সীমাবদ্ধতা উত্তরণে ১৩ দফা সুপারিশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ টিআইবি। সংস্থাটি গবেষণা প্রতিবেদনে জানিয়েছে ই-জিপি দুর্নীতি রোধ এবং সরকারি কাজের মানোন্নয়নে কোনো প্রভাব ফেলেনি।এর কার্যকারিতার জন্য দফা গুলো কার্যকর হতে হবে। প্রতিবেদনের ১৩ দফা সুপারিশের এক দফা তে উল্লখ করে; জনপ্রতিনিধি ও জনগুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির রাষ্ট্রের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ব্যবসায়িক সম্পর্কের সুযোগ বন্ধ করতে হবে।

গতকাল ‘সরকারি ক্রয়ে সুশাসন : বাংলাদেশে ই-জিপি’র কার্যকরতা পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে ১৩ দফা সুপারিশ পেশ করা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। এ সময় সংস্থার উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহজাদা এম আকরাম। গবেষক দলের সদস্য নাহিদ শারমীন এবং মো. শহিদুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সরকারি ক্রয়ে ই-জিপি’র (ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) প্রবর্তনের ফলে ক্রয় প্রক্রিয়া সহজতর হলেও কার্যাদেশ পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব, যোগসাজশ, সিন্ডিকেট এখনো কেন্দ্রীয় ভ‚মিকা পালন করছে। ক্রয়াদেশ পর্যন্ত এর ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা, সব ধরণের ক্রয়ে ই-জিপি’র ব্যবহার না হওয়া এবং ই-জিপি প্রবর্তনের ফলে ম্যানুয়াল থেকে কারিগরি পর্যায়ে সরকারি ক্রয়ের উত্তরণ ঘটলেও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের একাংশ দুর্নীতির নতুন পথ খুঁজে নিয়েছে। বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা থেকে উত্তরণ এবং ই-জিপি’র কার্যকর সুফল পেতে ১৩ দফা সুপারিশ প্রদান করছে টিআইবি।

গবেষণা প্রতিবেদনের ভ‚মিকায় জানানো হয়, বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় খাতে সুশাসনের আঙ্গিকে ই-জিপি’র প্রয়োগ ও কার্যকরতা পর্যালোচনা করার উদ্দেশে ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের জন্য ই-জিপি বাস্তবায়নকারী প্রথম দিকের চারটি প্রতিষ্ঠান- স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি), সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ), বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে (বিআরইবি) বাছাই করা হয়। সারা দেশে চারটি প্রশাসনিক বিভাগের একটি করে জেলা এবং সে জেলার একটি উপজেলা পর্যায়ে (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) অবস্থিত কার্যালয় ও ঢাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। গুণগত ও সংখ্যাগত উভয় পদ্ধতি অনুসরণ করে চারটি প্রতিষ্ঠানের ৫২টি কার্যালয় থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। গবেষণায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘ট্রাফিক সিগন্যাল পদ্ধতি’ ব্যবহার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অনেক প্রত্যাশা নিয়ে ই-জিপি’র প্রবর্তন হয়েছে। ভেবেছিলাম এর ফলে সরকারি ক্রয় খাতে সুশাসন ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আশানুরূপ ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাবে। কিন্তু হতাশার বিষয় হলো ই-জিপি’র ফলে ক্ষেত্র বিশেষে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলেও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাজের মানন্নোয়নে এর কোনো প্রভাবই পড়েনি।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে ৫০ শতাংশ স্কোর পেয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ)। ৪৪ শতাংশ স্কোর পেয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ (আরইবি), পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ৪৩ শতাংশ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) পেয়েছে ৪২ শতাংশ অর্থাৎ কোনো প্রতিষ্ঠানের অবস্থানই ‘ভালো নয়’ গ্রেডে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে সব প্রতিষ্ঠানের স্কোর ১৯ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ অর্থাৎ হতাশাব্যঞ্জক। প্রাপ্ত গ্রেড অনুযায়ী সব প্রতিষ্ঠানের অবস্থান সার্বিকভাবে ঘাটতিপূর্ণ। ই-জিপি ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং কার্যকরতায় অবস্থান উদ্বেগজনক। যেসব নির্দেশকে অবস্থান উদ্বেগজনক সেগুলো হচ্ছে বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা, প্রাক-দরপত্র সভা, ই-চুক্তি ব্যবস্থাপনা, কার্যাদেশ বাস্তবায়ন তদারকি, নিরীক্ষা, কর্মচারীদের সম্পদের তথ্য প্রকাশ, অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং কাজের মান।

১৩ দফা সুপারিশের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে- ই-জিপি’কে রাজনৈতিক প্রভাব, যোগসাজশ ও সিন্ডিকেটের দুষ্টচক্র থেকে মুক্ত করতে হবে। সেই লক্ষ্যে সকল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও জনগুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির রাষ্ট্রের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ব্যবসায়িক সম্পর্কের সুযোগ বন্ধ করতে হবে। সকল ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের সব ধরণের ক্রয় ই-জিপি’র মাধ্যমে করতে হবে। কাজের চাপ ও জনবল কাঠামো অনুযায়ী ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানে জনবল বাড়াতে হবে। সব অংশীজনকে প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। প্রাক-দরপত্র মিটিং নিশ্চিত করতে হবে। ঠিকাদারদের অনলাইন ডাটাবেইজ তৈরি করতে হবে। সমন্বিত স্বয়ংক্রিয় দরপত্র মূল্যায়ন পদ্ধতি থাকতে হবে। দরপত্র সংক্রান্ত সব তথ্য ও সিদ্ধান্ত স্বপ্রণোদিতভাবে প্রকাশ করতে হবে। ই-জিপির সাথে জড়িত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিজস্ব ও পরিবারের অন্য সদস্যদের আয় ও সম্পদের বিবরণী প্রতিবছর প্রকাশ করতে হবে।

আরসি/ বে অব বেঙ্গল নিউজ


  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published.