কার হাতে যাবে শিরোপ, পিএসজি বনাম বায়ার্ন মিউনিখ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ছবি:সংগৃহীত

নিজেদের ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠেছে পিএসজি। ইউরোপা সেরা হওয়ার পথে ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের শেষ বাধা বায়ার্ন মিউনিখ।


জার্মান চ্যাম্পিয়নরা আগেই এই স্বাদ পেলেও এবার তাদের একেবারেই ভিন্ন অবতারে দেখা যাচ্ছে। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ছিন্নভিন্ন করে এবার ফাইনালে উঠেছে বাভারিয়ানরা। তবে দুই দলেই আছেন অসংখ্য তারকা ফুটবলার। কিন্তু দুইয়ের মধ্যে সেরা একাদশ কার?


‘ড্রিবল্যাব’ নামের ফুটবলভিত্তিক গবেষণাধর্মী ওয়েবসাইটের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে পিএসজি ও বায়ার্নের শক্তিমত্তার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেছে স্প্যানিশভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’।

চলুন দেখে নেওয়া যাক সেই বিশ্লেষণ অনুযায়ী দুই দলের মধ্যে কার শক্তি বেশি।

জশুয়া কিমিচ বনাম থিলো কেহরের
রাইট-ব্যাক পজিশনে দুজনের কেউই নিয়মিত নন, তবে দুই জার্মানের মধ্যে বেশ বড় পার্থক্য আছে।
কিমিচের সৃজনশীলতা বেশ উচ্চমানের। অন্যদিকে কেহরের পিএসজির রক্ষণে সমতা রক্ষার কাজ করেন।


জেরোমে বোয়েটাং বনাম থিয়াগো সিলভা
ফাইনালে দুজনই অনিশ্চিত এবং দুজনেই ক্যারিয়ারের গোধূলিতে অবস্থান করছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগের এবারের আসরে অবশ্য দুই ডিফেন্ডারই দারুণ পারফর্ম করছেন। তবে থিয়াগোর চেয়ে তুলনামূলক বিচারে বোয়েটাং কিছুটা এগিয়ে আছেন।


দাভিদ আলাবা বনাম প্রেসনেল কিম্পেম্বে
সেন্টার-ব্যাক পজিশনে বায়ার্নের আলাবা এককথায় দুর্দান্ত, তবে বল ছিনিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এবারের আসরে অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার বলা যায় কিম্পেম্বেকে। তবে পিএসজির রক্ষণের অন্যতম দুর্বলতা বলা যায় এই ফরাসিকে।


আলফোনসো ডেভিস বনাম হুয়ান বার্নাট

আলফোনসো ডেভিসের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। বায়ার্নের লেফট-ব্যাক পজিশনে এই মৌসুমে এককথায় অনবদ্য খেলছেন তিনি। বার্সেলোনাকে ৮-২ গোলে বিধ্বস্ত করার ম্যাচেও মেসিদের ঠেকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা ছিল এই তরুণের। বার্নাটও বেশ ভালোই খেলছেন, তবে রক্ষণে পিএসজির জন্য তিনি অতটা নির্ভরযোগ্য নন।

থিয়াগো বনাম মার্কো ভেরাত্তি
নিজ নিজ দলের দুই ‘মাথা’ বলা যায় এই দুই মিডফিল্ডারকে। বায়ার্ন ও পিএসজির মিডফিল্ডের দুই মূল উপাদান। ভেরাত্তি ফাইনালে খেলতে পারবেন কিনা তা অবশ্য নিশ্চিত নয়।
লিওন গোরেতস্কা বনাম মার্কুইনোস
মিডফিল্ডে শারীরিক শক্তির প্রয়োগ ঘটান এই দুজন। তবে দুজন কিন্তু আলাদা ধরনের খেলোয়াড়। গোরেতস্কা যেখানে আক্রমণভাগকে সহায়তা করার কাজ করেন, সেখানে মার্কুইনোস রক্ষণের দিকেও দৌড়ান। অর্থাৎ মার্কুইনোস মূলত ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার।


টমাস মুলার বনাম আন্দের হেরেরা
দুজনের খেলার ধরন আলাদা। মূলত দলের জন্য গোলের সুযোগ তৈরি করাই বায়ার্নের মুলারের কাজ। অন্যদিকে বল ছাড়াই পিএসজির হেরেরা বেশি কার্যকর, তার কাজ প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি ও বল ছিনিয়ে নেওয়া কিংবা বাধা দেওয়া।


সার্জ নাব্রি বনাম আনহেল দি মারিয়া
নিজ নিজ দলের সেমিফাইনালের দুই নায়ক ক্যারিয়ারের দুই দিগন্তে অবস্থান করছেন। গত কয়েক বছরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে নজর কেড়েছেন বায়ার্নের ন্যাব্রি। কিন্তু প্রায় এক যুগ ধরেই শীর্ষ পর্যায়ের পারফর্মার হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন পিএসজির অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার (মাঝে মাঝে উইঙ্গার হিসেবেও খেলেন) দি মারিয়া।


ইভান পেরিসিচ বনাম নেইমার

যেকোনো কোচের জন্য ভরসার কারণ হবেন পেরিসিচ। চ্যাম্পিয়নস লিগের এবারের আসরে ফরোয়ার্ড লাইনে কিংসে কোম্যানের জায়গায় তাকেই বিবেচনা করে আসছেন বায়ার্ন কোচ হ্যান্সি ফ্লিক। ক্রোয়েশিয়ান তারকা গোল করায় বেশ পারদর্শী, কিন্তু দ্বিধাহীনভাবে নেইমারকে তার চেয়ে এগিয়ে রাখা যায়। অন্তত এই মৌসুমে সবার নজর কাড়ার মতো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান। আর সবাই জানে, তার পক্ষে কী করা সম্ভব। আর এবারই সম্ভবত পিএসজির হয়ে সেরা ফর্মে দেখা যাচ্ছে তাকে। ফলে ইতিহাসে নাম লেখানোর হাতছানি অপেক্ষা করছে নেইমার ও পিএসজির সামনে।


রবার্ট লেভানডভস্কি বনাম কিলিয়ান এমবাপ্পে


এক মৌসুমে ১৭ গোল করে রোনালদোর গড়া চ্যাম্পিয়নস লিগ রেকর্ড ভাঙার খুব কাছে পৌঁছে গেছেন রবার্ট লেভানডভস্কি। বায়ার্নের পোলিশ স্ট্রাইকার আর মাত্র ২ গোল করলেই জুভেন্টাসের পর্তুগিজ উইঙ্গারকে ছুঁয়ে ফেলবেন। অন্যদিকে চোটের কারণে লিসবনে এখনও নিজেকে সেভাবে মেলেই ধরতে পারেননি এমবাপ্পে। তবে পিএসজির ফরাসি উইঙ্গারের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার সাহস কারো নেই। সবাই জানে এই বিশ্বকাপজয়ী তরুণের তীব্র গতি আর ড্রিবলিং যেকোনো প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দিতে সক্ষম।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published.