ক্রলি ও বাটলারের রানের পাহাড়, অ্যান্ডারসনের বোলিংয়ে দিশেহারা পাকিস্তান

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ছবি:সংগৃহীত

‘ওরা ছয় শ করবে। কাল আলো কমে এলে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠাবে। ইংল্যান্ড কম আলোতে বোলিং পছন্দ করে।’ কথা গুলো সাউদাম্পটন টেস্টের প্রথম দিন শেষে বলেছিলেন সাবেক পাকিস্তানি ফাস্ট বোলার শোয়েব আখতার। আজ সাউদাম্পটন টেস্টের দ্বিতীয় দিন ঠিক তাই হলো। ইংল্যান্ড ঠিক শেষ বেলায় ৮ উইকেটে ৫৮৩ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেন ইংলিশ অধিনায়ক জো রুট। এরপর পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে ৪ ওভারের মাথায় দুই ওপেনারকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান জিমি অ্যান্ডারসন। দিনের খেলা শেষ হওয়ার ঠিক আগে পাকিস্তানি ব্যাটিংয়ের নিউক্লিয়াস বাবর আজমকে আউট করেন তিনি।

দিনটা এর চেয়ে ভালো হতে পারে না ইংল্যান্ডের। প্রথম ইনিংসে বিশাল রান। এরপর শেষ বেলায় পাকিস্তান তিন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।


পাকিস্তানের বিপদ ঘণ্টা বাজা শুরু হয় প্রথম দিন থেকেই। একদিনে ৪ উইকেটে ৩৩২ রান। ডাবল সেঞ্চুরির কাছাকাছি ছিলেন জ্যাক ক্রলি, বাটলারের চোখ ছিল সেঞ্চুরিতে। চলমান ইংলিশ গ্রীষ্মে ছয় টেস্ট খেলা হয়ে গেল। প্রথম দিন এতটা সাফল্য কেউই পায়নি। প্রথম দিনের ভালো কাজে ভর করে দ্বিতীয় দিন রানের পাহাড় গড়ে ইংল্যান্ড।
সকাল বেলা বৃষ্টি বাধা দিলেও মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই জস বাটলার পূর্ণ করেন উইকেটকিপার হিসেবে টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। বাটলারের ভাগ্য ভালো। ৯৯ রানে মোহাম্মদ আব্বাসের বলে পাকিস্তানের কট বিহাইন্ডের আবেদনে সাড়া দিয়েছিলেন আম্পায়ার। কিন্তু রিভিউ নিয়ে রক্ষা পান। একই ওভারে বল কাভারে ঠেলে দিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।
ক্রলির ভাগ্যও ভালো ছিল। ক্রলি ১৯৭৯ সালের পর সর্বকনিষ্ঠ ইংলিশ ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল করার অপেক্ষায় ছিলেন। মধ্যাহ্ন বিরতির পর অপেক্ষা ফুরায়। সেখানেও নাটকীয়তা। নাসিম শাহর অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট চালয়ে বসেন ২২ বছর বয়সী এই তরুণ। দ্বিতীয় স্লিপে থাকা বাবর আজমের হাতে বলটা জমতে পারত। কিন্তু ভাগ্য ভালো থাকলে যা হয় ঠিক তাই হলো। ক্রলির ব্যাট হয়ে বল গেল সীমানার বাইরে। ১৯৭ থেকে স্কোরবোর্ডে সংখ্যাটা বদলে হলো ২০১ রান।
ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটিই ডাবল সেঞ্চুরি বানিয়ে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন ক্রলি। স্পিনারদের সুইপ, রিভার্স সুইপ করে লেংথ পেছনে নিতে বাধ্য করেন। খেলেছেন পায়ে কাজে লং অন, লং অফ দিয়েও। পেসারদের একই জায়গা ধরে বল করতে দেননি ড্রাইভ, পুল ও লেগ গ্লান্সে।
ক্রলির রান বাড়তে থাকে, সঙ্গে ইংল্যান্ডও উঠতে থাকে রানের পাহাড়ে। এই তরুণ ব্যাটসম্যানকে থামাতে শেষ পর্যন্ত সিলেবাসের বাইরের কিছু ব্যবহার করেন পাকিস্তানি অধিনায়ক আজহার আলী। অনিয়মিত বোলার আসাদ শফিক, শান মাসুদ ও ফাওয়াদ আলমদের নিয়ে বোলিং করান তিনি। জুয়া খেলে জিতেও যান। চা বিরতির ঠিক আগে লেগ স্টাম্পের বাইরে ইচ্ছে করে বল ফেলে ক্রলিকে স্টাম্পিং করেন আসাদ।

বাটলারও আউট হন অনিয়মিত বোলিংয়ে। ফাওয়ার আলমের বলে কট অ্যান্ড বোল্ড হন ক্যারিয়ার সেরা ১৫২ রান করা বাটলার। এরপর ক্রিস ওকস ও ডম বেস ক্রিজে এসে খেলেন ওয়ানডে ক্রিকেটে। ৫৪ বলে যোগ করেন ৪০ রান। ৩০ বলে ২৭ রান করে অপরাজিত ছিলেন বেস। এতেই ইংল্যান্ডের রান গিয়ে থামে ৮ উইকেটে ৫৮৩ রানে।
পাকিস্তানের বাকি ক্ষতিটা করেছেন অ্যান্ডারসন। প্রথম স্পেলে এসেই পাকিস্তানি টপ অর্ডারে ধস নামান এই সুইংয়ের রাজা। চোখের পলকে উপরের সারির তিন ব্যাটসম্যানকে আউট করে ইতিহাসে প্রথম পেসার হিসেবে ৬০০ উইকেট স্পর্শ করার খুব কাছে পৌঁছে যান। আর ৪ উইকেট হলেই সাউদাম্পটনে ইতিহাস গড়বেন অ্যান্ডারসন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published.