বর্ণবাদের শিকার হয়েছিলেন আফ্রিকান পেসার ‘সতসবে’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ছবি:সংগৃহীত

অবিশ্বাস্য এ অভিযোগটা দক্ষিণ আফ্রিকার এক রেডিও শো-তে করেছেন সতসবে। ‘মারাওয়া স্পোর্টস শো’তে এক সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক সব কথা বলেছেন ৩৬ বছর বয়সী এ পেসার। দক্ষিণ আফ্রিকার বিখ্যাত সাংবাদিক থাবিসো ছিটহোল সতসবের এসব কথা কয়েকদিন আগে ধারাবাহিক টুইটে জানান। দক্ষিণ আফ্রিকার এ সংবাদকর্মী টিভি ও রেডিও-র হয়ে ক্রিকেট ও ফুটবল বিশ্বকাপ ছাড়াও অলিম্পিক গেমস কাভার করেছেন। প্রোটিয়া ক্রিকেটে বর্ণবাদ নিয়ে সতসবের নানা কথা টুইট করেন ছিটহোল। ২০১৪ সালে দেশের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলা সতসবে বলেন, ‘প্রোটিয়াদের হয়ে খেলাটা ছিল স্বপ্ন, না আসলে ইস্টান কেপের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখেছি। বেশ উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এসেছি। ওয়ারিয়র্সে এসে চ্যালেঞ্জটা টের পাই। নিজেদের মাতৃভাষায় (খোসা) কথা বলতে নিষেধ করা হয়, যদিও তারা আফ্রিকানসে কথা বলত।’

গ্রায়েম স্মিথ এখন দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের পরিচালক। খেলোয়াড় হিসেবেও তাঁর অর্জন কম নয়। প্রোটিয়াদের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ক্রিকেটার তো বটেই অধিনায়ক হিসেবেও সেরাদের কাতারে থাকবেন স্মিথ। কিন্তু তাঁকে নিয়ে লনওয়াবো সতসবের কথা শুনলে আক্কেলগুড়ুম হয়ে যাবে। ম্যাচ পাতানোর দায়ে ৮ বছর নিষিদ্ধ হওয়া বাঁ হাতি এ পেসারের অভিযোগ, স্মিথ একবার তাঁকে উইকেট নিতে নিষেধ করেছিলেন!

দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ পাতানোর দায়ে নিষিদ্ধ হন সতসবে। ওয়ানডেতে এক সময় র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানীয় বোলার ছিলেন তিনি। বর্ণবাদ নিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়ের বদলি হিসেবে কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড় খেলত। একজন কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড় দলের বাইরে গেলে তার জায়গায় আরেকজন কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড় আসত। আমাকে আসলে কোটার খেলোয়াড় বলা হতো।’ মারাওয়া স্পোর্টস শো তে তিনি বলেন, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বোলার হওয়ার পরও তাঁর দলে জায়গা পাওয়াটা কঠিন ছিল। কারণ গা থেকে ‘কোটার খেলোয়াড়’ তকমাটা খসাতে পারেননি সতসবে।

২০১০ সালে টেস্ট অভিষেক ঘটে সতসবের। তাঁর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টে প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সে ম্যাচ নিয়ে সতসবের বিস্ফোরক মন্তব্যও টুইট করেন ছিটহোল, ‘আমাকে একবার এক অধিনায়ক এক প্রান্ত থেকে বল করার সময় বলেছিল অবশ্যই উইকেট নেওয়া যাবে না। এটা ছিল দলীয় কৌশল! সত্যি বলতে দলের জন্য এমন কোনো নির্দেশ পেলে সেটা করতেই হয়। এটা ছিল আমার দ্বিতীয় টেস্ট। শুধু মরনে মরকেল ও ডেল স্টেইন উইকেট নিতে পারত।’ প্রশ্নকর্তা জানতে চেয়েছিলেন সে ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক কে ছিলেন? সতসবের জবাব, ‘যে অধিনায়ক আমাকে উইকেট নিতে নিষেধ করেছিলেন তিনি গ্রায়েম স্মিথ।’

অনুষ্ঠানের শেষভাগে এসে সতসবে বলেন, ‘তারা আমাদের হুমকি দিতে পারে। যা খুশি তাই করতে পারে। এটাই তো সময়। মাখায়া এনটিনি এবং আমি যাদের কথা বলছি তারা এখন ক্রিকেট চালায়। এটা পাল্টাবে কীভাবে?’ দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটে পরিচালক পদে আছেন স্মিথ। প্রধান কোচের পদ সামলাচ্ছেন সাবেক উইকেটরক্ষক মার্ক বাউচার এবং ব্যাটিং কনসালট্যান্ট হিসেবে আছেন সাবেক অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস।

সতসবে তাঁর ওপর ম্যাচ পাতানোয় দায় নিয়েও কথা বলেছেন, ‘যে প্রমাণ দেখানো হয়েছে, আমার মতে এটা পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত। আমি এ নিয়ে নিজের আইনি দলের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বিষয়টি দেখবে।’ সতসবে জানান, তিনি কখনো অধিনায়কের বিরুদ্ধাচরণ করেননি। তবে এক ম্যাচে সেরা খেলোয়াড় হওয়ার পর কোচের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। তিন দিন পর ম্যাচে দলীয় স্কোয়াডে ‘তাঁর নাম ছিল না।’


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published.