ভাস্কর্য ও মূর্তি এক নয়: বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোট

  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

IMG 20201122 210455
জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোটের নেতৃবৃন্দ

ভাস্কর্য ও মূর্তি এক নয়। ইসলামের দৃষ্টিতে মূর্তি বা ভাস্কর্য মানেই শিরক নয়। 

আজ রোববার ২২ নভেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ মতামত তুলে ধরেন বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোটের সভাপতি সভাপতি হাফেজ মাওলানা জিয়াউল হাসান। তিনি বলেন, পাকিস্তানপন্থীরা হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে এসেছে। তারা ভাস্কর্যের বিরোধিতা করছে।

রাজধানীর ধোলাইপাড়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধীতা করেছে ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দল।

‘ভাস্কর্যকে মূর্তি পূজার সঙ্গে তুলনার পোস্টমর্টেম’ শীর্ষক ওই সংবাদ সম্মেলনে পবিত্র বোখারি শরিফের বরাতে জিয়াউল হাসান বলেন, হযরত আয়শার (রা.) ঘরে ঘোড়ার ছোট মূর্তি রাখা ছিল। স্বয়ং রসূল (সা.) তা রাখতে নিষেধ করেননি। ওই ছোট পুতুল পূজার জন্য নয়; খেলার জন্য ছিল। একইভাবে যেসব ভাস্কর্য সৌন্দর্য্য চর্চা বা ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতিফলক হিসেবে স্থাপিত তা ইসলামি শিক্ষানুযায়ী নিষিদ্ধ নয়।

জিয়াউল হাসান লিখিত বক্তব্যে পবিত্র কোরানে সূরা সাবার ১৩ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, ভাস্কর্য বা প্রতিমা এক নয়। আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তারা সুলায়মানে ইচ্ছানুযায়ী প্রাসাদ, ভাস্কর্যদৃশ বৃহদাকার পাত্র নির্মাণ করিত। আমি বলেছিলাম হে দাউদ-পরিবার, কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তোমরা কাজ করতে থাক।’

জিয়াউল হাসান বলেন, পবিত্র কোরানে ভাস্কর্যকে ‘তামাসিলা’ এবং মূর্তিকে ‘আসনাম’ বলা হয়েছে। যারা এই দুই শব্দের একই অর্থ করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চান তারা পবিত্র কোরানের ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। পবিত্র কোরানের অপব্যাখ্যাকরীদের চিনতে জনগণ একাত্তরে ভুল করেনি, এখনো করবে না। ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনার, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে যখন বাংলাদেশের মুসলমানরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, তখন তারা কেউই সেখানে ইবাদতের নিয়তে যান না। ফুল দিয়ে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শহীদদের ত্যাগের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয় মাত্র।

জিয়াউল হাসান বলেন, সৌদি আরবের জেদ্দায় মুষ্টিবদ্ধ হাতের ভাস্কর্য রয়েছে। আরব আমিরাতে আছে ঘোড়া ও মাছের ভাস্কর্য। ইরানজুড়ে ভাস্কর্য রয়েছে। জীবের ভাস্কর্য যদি শিরক বা পূজার উদ্দেশে নির্মিত না হয়, তবে এতে দোষের কিছু নেই।

ভাস্কর্য নিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি ধার্মিকতার লক্ষণ নয় বলে মন্তব্য করেন জিয়াউল হাসান। তিনি বলেন, নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিতে পারে। আল্লার রাসূল মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছেন।

জিয়াউল হাসান বলেন, হাটহাজারীর কাছে খাগড়াছড়ি শহরের প্রবেশপথে থাকা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানে বিশাল ভাস্কর্য রয়েছে। হেফাজতে ইসলামের নেতারা যদি ভাস্কর্যবিরোধী হন, তবে এই ভাস্কর্য ভেঙে দেখাক।

সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন, জোটের সহসভাপতি মুফতি জোবাইদ আলী, প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আবুল হোসেন প্রমুখ। 

বে অব বেঙ্গল নিউজ/স্টাফ রিপোর্টার।


  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share