শিবিরের গুলিতে ছাত্রলীগ নেতা আলী মরতুজা হত্যার ১৯ বছরঃ সুরাহা হয় নি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের জেষ্ঠ সহসভাপতি আলী মর্তুজা চৌধুরী হত্যার ১৯ বছর পূর্ণ হল আজ। বছরের পর বছর চলছে বিচারকাজ। মামলা ঘুরছে আদালত থেকে আদালতে। বাবা দেখে যেতে পারেননি বিচার। তবু আশা ছাড়েননি স্বজনেরা—একদিন বিচার শেষ হবে, শাস্তির আওতায় আসবে খুনিরা। ছাত্রলীগ নেতা আলী মরতুজা হত্যার ১৯ বছরেও সুরাহা হয় নি।
শিবিরের গুলিতে ছাত্রলীগ নেতা আলী মরতুজা হত্যার ১৯ বছরঃ সুরাহা হয় নি
শিবিরের গুলিতে ছাত্রলীগ নেতা আলী মরতুজা চৌধুরী

সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালের ২৯ ডিসেম্বর গ্রামের বাড়ি হাটহাজারীর ফতেয়াবাদ ছড়ারকূল এলাকায় একটি সেলুনে শিবির কর্মীদের গুলিতে খুন হন তিনি। পরদিনই হাটহাজারী থানায় মামলা করেন তাঁর বড় ভাই ও ফতেয়াবাদ আদর্শ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী নাসের চৌধুরী। এতে আসামি করা হয় আটজনকে। চতুর্থ অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বর্তমানে এই মামলার বিচার চলে। ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়েছেন আদালত।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, এই মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ ২০০৪ সালে এই মামলার অভিযোগপত্র দেয়। এতে আটজনকেই অভিযুক্ত করা হয়। আসামিদের মধ্যে ঘটনার পর থেকে পলাতক শিবির ক্যাডার হাবিব খান। জামিনে গিয়ে পলাতক মো. হাসান ও মো. ইসমাইল। অন্যদিকে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন সন্ত্রাসী গিট্টু নাসির, গণপিটুনিতে নিহত হন আইয়ুব আলী ওরফে রাশেদ এবং সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারা যান সাইফুল ইসলাম। শিবির ক্যাডার তছলিম উদ্দিন ওরফে মন্টু ও মো. আলমগীর ওরফে বাইট্টা আলমগীর কারাগারে।

এর আগে আলোচিত এই নৃশংস এ হত্যা মামলার বিচারকাজ শেষ হয় গতবছর । আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে চতুর্থ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম মঙ্গলবার (২৮ মে) আলী মর্তুজা হত্যা মামলার রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন।

এ দিকে মামলার বিচার দ্রুত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন আলী মর্তুজার ভাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর ও যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আলী আজগর।

তিনি লিখেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা থাকাকালে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক শহীদ মোহাম্মদ আলী মরতুজা চৌধুরীর হত্যার বিচারের দাবি করেছিলেন। ২০০৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর শহীদ মরতুজার বাড়িতে গিয়ে এবং তার কবরে ফুল দিয়ে আপনি আপনার কর্মীর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ করেছিলেন। আপনি হয়তো জানেনই না আজও মরতুজার খুনের বিচার হয়নি। আপনি বিচার ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কার করলেও অব্যবস্থাপনা এবং হয়রানি বন্ধ হয়নি।

মরতুজা হত্যার বিচারের রায় ঘোষণার পরপর তিনদিন তারিখ দিয়ে মামলা এখন আবার অন্য আদালতে। বিচারের নামে প্রহসনের এ যাতনা কেবল ভুক্তভোগীরাই অনুভব করতে পারে। আপনি যাদের দায়িত্ব দিয়েছেন তাদের এসব দেখার সময় নেই। বিশ্বাস রাখি, আপনার দৃষ্টিগোচর হলে দায়িত্বশীলদের জবাবদিহি করতেই হবে।

বে অব বেঙ্গল নিউজ /BAY OF BENGAL NEWS