চসিক নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী দলের হতে পারেন কিন্তু দল কর্তৃক মনোনীত নাঃ ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

চট্টগ্রামঃ চসিক নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়ন ও দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিভ্রান্ত সাধারণ জনগণ ও তৃণমূল আওয়ামী লীগ। এমনকি একই ওয়ার্ডে দলীয় একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগও উঠেছে। সংঘর্ষে হত্যার অভিযোগও উঠেছে চট্টগ্রামের কয়েকটি ওয়ার্ডে। এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া মন্তব্য করেন কাউন্সিলর প্রার্থীরা দলের কিন্তু দল কর্তৃক কেউই মনোনীত না।
চসিক নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী দলের হতে পারেন কিন্তু দল কর্তৃক মনোনীত নয়ঃ ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া
চসিক নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী দলের হতে পারেন কিন্তু দল কর্তৃক মনোনীত নয়ঃ ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ” চসিক নির্বাচনে যারা কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন তারা দলের হতে পারেন। কিন্তু দল কর্তৃক মনোনীত কেউ নয়। এখানে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আছে, নির্বাচন কমিশন আছে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। কেউ অপরাধ করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সরকার ও প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে।”

আগামী ২৭ জানুয়ারি আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে নগর জুড়ে সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত মেয়র প্রার্থী নিয়ে দলের সবাই ঐক্যবদ্ধ হলেও, কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে নগর আওয়ামী পরিবারে জ্বলছে বিদ্রোহের দাবানল।

চট্টগ্রাম মহানগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী। প্রতিটি ওয়ার্ডে একক প্রার্থীকে দলীয় সমর্থন দেওয়ার কথা বলা হলেও প্রায় সবকটি ওয়ার্ডেই রয়েছে দলীয় পরিচয় বহনকারী একাধিক প্রার্থী। দল তাদেরকে বিদ্রোহী প্রার্থী বললেও তা মানতে নারাজ প্রার্থীরা।

তাঁদের মতে, “দলীয় প্রতীক হল নৌকা। আমরা নির্বাচনে নৌকার প্রতীকের বিরুদ্ধে কাজ করছি না। কাউন্সিলর নির্বাচনে দলের কোন প্রতীক নেই। আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থী। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া গণতান্ত্রিক অধিকার। জনগণ যাকে ভোট দিবে সে ই নির্বাচিত হবে।

এদিকে ৮ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসে। ইতিমধ্যে একাধিক ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীরা কর্মী সমর্থকদের নিয়ে লিপ্ত হচ্ছেন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। প্রচারণা শুরুর প্রথম দিনেই মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিমের পক্ষে গণসংযোগ থেকে ফেরার পথে আহত হন ১৭ নং ওয়ার্ড স্থ ডিসি রোডের বাসিন্দা আশিকুর রহমান রোহিত।

অন্যদিকে ১৫ জানুয়ারি (শুক্রবার) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোহিত মৃত্যুবরণ করে। গত ১২ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) ২৮ নং পাঠানটুলি ওয়ার্ডের মোগলটুলি মগপুকুর পাড় এলাকায় গণসংযোগ করার সময় কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর ও সদ্য সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল কাদেরের উপস্থিতিতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হন বাবুল সর্দার নামে বাহাদুরের এক সমর্থক। এ ঘটনায় পুলিশ সেদিন রাতেই আব্দুল কাদের সহ ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করলেও  হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার হয়নি এখনও।

এছাড়াও নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে ১৪ নং লালখান বাজার ওয়ার্ডে। নানা হুমকি-ধমকি, সংঘাত-সংঘর্ষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এই ওয়ার্ডটি। এই ওয়ার্ডে আবুল হাসনাত বেলাল আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী হলেও  ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুমের সাথে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ব্যক্তিগত কোন্দল নির্বাচনের আগ মূহুর্তে চরম আকার ধারণ করেছে।

এরই মাঝে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও কল রেকর্ডিং এ বেলালের সমর্থক হত্যা মামলার আসামি সোহাগ কে বলতে শুনা যায়,’প্রয়োজনে মাসুম ভাইয়ের লাশের উপর দিয়ে হলেও বেলাল ভাইকেই জয়ী করবো। এরজন্য আমার যা হওয়ার হবে।’ আরেকটি আলোচিত  ভিডিওতে বেলালকে বলতে শুনা যায়, ‘দিদারুল আলম মাসুমকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিরোধ করা হবে। আপনারা যার যা কিছু আছে তা নিয়ে রাজপথে নেমে আসবেন।’

এদিকে মাসুমও বেলালকে ধরাশায়ী করতে শক্তভাবে মাঠে নেমেছেন বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা আছে। বিদ্রোহী প্রার্থী এ এফ কবির মানিককে বিজয়ী করতে  দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ করে মাসুমকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির অনুরোধ জানিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের কাছে চিঠিও পাঠান বেলাল।

গত ৫ জানুয়ারি মাসুম তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘কোন অযোগ্য কিশোর গ্যাং লিডার, বিএনপি জামাতের আশ্রয়দাতার কাউন্সিলর হওয়ার স্বপ্ন লালখান বাজারের মানুষ বাস্তবায়ন হতে দিবে না।’ ২৭ তারিখ বৈধ ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের জবাব লাললখান বাজারের সাধারণ জনগণ দিবে বলেও উল্লেখ করেন তার স্ট্যাটাসে।

এমন পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর মন জুড়ে চরম সংঘাতের চাপা আতঙ্কই সত্য হল। সর্বশেষ ১৬ জানুয়ারি (শনিবার) বিকেলে টাইগারপাস বটতলে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রেজাউল করিমের নির্বাচনী প্রচারণা  চলাকালীন সময়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছে মাসুম ও বেলালের কর্মী সমর্থকেরা।

এছাড়াও নগরীর আরো বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে নির্বাচনকে ঘিরে বাড়তি উত্তেজনা বিরাজ করছে। ৯ নং উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী নুরুল আবছার মিয়া হলেও সাবেক কাউন্সিলর ও বিদ্রোহী প্রার্থী জহিরুল আলম জসিমের শক্ত অবস্থান রয়েছে।

আবার ১৩ নং পাহাড়তলী ওয়ার্ডে দলীয় প্রার্থী ওয়াসিম উদ্দীন চৌধুরীকে হটাতে একটি পক্ষ একাট্টা হওয়ায় সেখানেও মারাত্মক সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ওয়ার্ডে  ব্যানার পোস্টার ছিড়ে ফেলাসহ কর্মী সমর্থকদের মারধরের  পাল্টাপাল্টি অভিযোগও করছেন প্রার্থীরা।

বে অব বেঙ্গল নিউজ / bay of bengal news

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •