শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের ইতিহাসে মাইলফলক :রাষ্ট্রপতি

  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    7
    Shares

আজ ২০ জানুয়ারি শহীদ আসাদ দিবস।।দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল গেট সংলগ্ন শহীদ আসাদ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

১৯৬৯ সালের এই দিনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে স্বৈরশাসন বিরোধী বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন নরসিংদীর কৃতিসন্তান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদ।

১৯৪২ সালের ১০ জুন নরসিংদীর হাতিরদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আসাদ। তার পৈতৃক নিবাস নরসিংদীর শিবপুরের ধানুয়া গ্রামে।

১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের নির্দেশে পুলিশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে স্বৈরশাসন বিরোধী ১১ দফা কর্মসূচির বিক্ষোভ মিছিলে গুলি চালালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে (বর্তমান আসাদ গেইট) শহীদ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র আসাদ।
শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের ইতিহাসে মাইলফলক :রাষ্ট্রপতি
শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের ইতিহাসে মাইলফলক :রাষ্ট্রপতি
আসাদের রক্তমাখা শার্ট নিয়ে তাৎক্ষণিক মিছিলে করে ছাত্র – জনতা। আসাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা ঢাকা মেডিক্যালে ছুটে আসেন। তার হত্যার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া মিছিলে যোগ দেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ। আসাদ হত্যার প্রতিবাদে পূর্ব পাকিস্তান কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম কমিটি তিনদিনের শোক পালন শেষে ২৪ জানুয়ারি হরতালের ডাক দেয়।

সেইদিনের মিছিলে আবারও পুলিশ গুলি চালালে আওয়ামী লীগের ছয়-দফা ও ছাত্রদের ১১ দফার ভিত্তিতে সর্বস্তরের মানুষের বাঁধভাঙা জোয়ার নামে ঢাকাসহ সারাবাংলার রাজপথে। সংঘটিত হয় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান। পতন ঘটে আইয়ুব খানের। আরেক স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় বসে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেন। সত্তর সালের সেই অভূতপূর্ব নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়; কিন্তু ইয়াহিয়া ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য নানা টালবাহানা শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় একাত্তর সালে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। মাত্র নয় মাস যুদ্ধের পর একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করে বাঙালি। বিশ্ব মানচিত্রে জন্ম নেয় বাংলাদেশ নামে একটি নতুন দেশের।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। তার অসামান্য অবদান দেশের তরুণ প্রজন্মকে সবসময় গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি একটি অবিস্মরণীয় দিন। তিনি শহীদ আসাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বৈমষ্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ছয় দফা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। শেখ হাসিনা বলেন, ছয় দফার পক্ষে প্রবল জনমতের জোয়ার দেখে আতঙ্কিত সামরিক জান্তা আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা দায়ের করে, যা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিচিত। বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ছয় দফা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠেন বাঙালির মুক্তির মহান নেতা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ আসাদের এই আত্মত্যাগ চলমান আন্দোলনকে আরো বেগবান করে। যার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীকালে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পতন হয় স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শহীদ আসাদসহ বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে আত্মউৎসর্গকারী সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

বে অব বেঙ্গল নিউজ / Bay of bengal news


  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    7
    Shares