চট্টগ্রামে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

যতদিন না বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে, ততদিন নির্মূল কমিটির আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

মঙ্গলবার ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এই দেশে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখা থেকে শুরু করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলা, মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সব কিছুতে সোচ্চার। দেশের মূল আদর্শের বিরুদ্ধে পান থেকে চুন খসলেও সেটি নির্মূল কমিটির নজর এড়ায় না! তারা এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। নির্মূল কমিটি আরও একটি বড় কাজ করেছিল। সেটি হচ্ছে কবি সুফিয়া কামালের নেতৃত্বে গণতদন্ত কমিশন তৈরি করে দুটি অসাধারণ রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার সংখ্যালঘুদের ওপর যে নির্যাতন চালিয়েছিল তার ওপর নির্মূল কমিটি তিন খন্ডে প্রায় তিন হাজার পৃষ্ঠার একটা রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল। এ ছাড়াও হেফাজতের তান্ডব, মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ওপর হাজার হাজার পৃষ্ঠায় শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে। শুধু আবেগীয় কথায় নির্মূল কমিটির আগ্রহ নেই, তারা তথ্য প্রমাণ হাজির করে দেয়।

তিনি আরো বলেন, এই দেশে মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সমস্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলনের যত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছে নির্মূল কমিটি তার কোন তুলনা নেই। সামগ্রীক কর্মকান্ডে চট্টগ্রামের ভূমিকাও অবিস্মরণীয়।

চট্টগ্রামে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা
চট্টগ্রামে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা

প্রধান বক্তা লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালি বলেন, যতদিন না বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে, ততদিন নির্মূল কমিটির আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন সফল করতে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, এই অসাধারণ ঐতিহাসিক সংগঠনটিকে তরুণ প্রজন্ম এগিয়ে নিয়ে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবে এই বিশ্বাস রেখে মরতে চাই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আন্দোলনে চট্টগ্রামের ভূমিকা সম্পর্কে মহাত্মা গান্ধীর ভাষায় তিনি বলেন, ‘চিটাগাং টু দ্য ফোর।’

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আন্দোলনের তিন দশক: চট্টগ্রামের ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা এবং দুঃস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত ও প্রধান বক্তা সাংবাদিক শওকত বাঙালি এসব কথা বলেন।

আজ ১৯ জানুয়ারি নগরীর চেরাগী পাহাড়স্থ সুপ্রভাত স্টুডিও হলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান, নারীনেত্রী জেসমিন সুলতানা পারু। প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের অষ্টম জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালি।

সংগঠনের জেলা সহ-সভাপতি দীপঙ্কর চৌধুরী কাজলের সভাপতিত্বে ও কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক মো. অলিদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন-সংগঠনের জেলা সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মইনুদ্দিন, মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, সহ-সাধারণ সম্পাদক হাবিব উল্লাহ চৌধুরী ভাস্কর, এ.কে.এম জাবেদুল আলম সুমন, আবু সাদাত মো. সায়েম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক চৌধুরী, সুমন চৌধুরী, মিথুন মল্লিক, মো. সাহাব উদ্দিন, অসিত বরণ বিশ্বাস, সহ মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সূচিত্রা গুহ টুম্পা, প্রচার ও গণমাধ্যম সম্পাদক সনেট চক্রবর্ত্তী, সহ-সম্পাদক রুবেল চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাজীব চৌধুরী, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আজমল হোসেন, জয়নাল আবেদিন, জ্যোতির্ময় ধর, মো. আলমগীর, আখতার হোসেন, মুক্তা জামান, কানিজ ফাতেমা লিমা, আবদুল্লাহ মুহিত, আবদুল হাকিম, দিপু বড়ুয়া, রুবেল কুমার শীল, ইমন শীল, রকিব হাসান রকি, রাহুল দাশ, চান্দগাঁও থানা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুউদ্দীন, বায়োজিদ থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব সোহেল, ফাহিম আল শাহরিয়ার, মো. রেজাউল করিম বাবলু, মো. জামশেদুল ইসলাম চৌধুরী, জুনায়েদ হোসেন কায়সার, সালাউদ্দিন রিমন, ওমর ফারুক, মো. নুরুল মোস্তফা রবি, দীপ্ত বড়ুুুুয়া, সালাউদ্দিন চৌধুরী রকি, জিয়াউল হক রাহি, রুপন কুমার বড়–য়া, শান্ত কর্মকার, রবিন দে, দ্বীপ কর্মকার, রাহুল দাশগুপ্ত, সুকান্ত শর্ম্মা, রৌহিত চৌধুরী, শাহনেওয়াজ আলবি, শাকিব রাফিতুল্লাহ, তাজরীন চৌধুরী, এম.এ.আর রাসেল, মুহা. হেলাল উদ্দিন, আশরাফুল রহমান, সাব্বির আহমেদ, ইমরান হোসেন, এনাম, প্রান্ত, রিত্তিক, নিলম প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে দীপংকর চৌধুরী কাজল বলেন, ১৯৯৪ সালে জাহানারা ইমামের মৃত্যুর পর নির্মূল কমিটির আন্দোলন থেমে গেলে কিংবা কমে গেলে অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। কিন্তু সেটা হয়নি। একজনের পর একজন নেতৃত্ব দিয়ে গিয়েছেন। রাজনৈতিক দলের বাইরে এটি সবচেয়ে দীর্ঘদিন থেকে চলমান একটি আন্দোলন। এর অনেক বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য আছে। তার সবচেয়ে প্রথমটি হচ্ছে এর সুবিশাল ব্যাপ্তি। বাংলাদেশের বিশিষ্টজনদের প্রায় সবাই কোন না কোনভাবে এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কবি সুফিয়া কামাল, কবি শামসুর রাহমান, অধ্যাপক আহমদ শরীফ, কথাশিল্পী শওকত ওসমান, অধ্যাপক কবীর চৌধুরী থেকে শুরু করে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের প্রায় সব বিশিষ্ট কবি-সাহিত্যিক-পেশাজীবী, এরপর তার পরের প্রজন্ম, এখন তার পরের প্রজন্মের তরুণরা এসেছে, আসছে।

বে অব বেঙ্গল নিউজ / Bay of bengal news


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •