পুলিশের লাঠিপেটায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ পণ্ড

  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares

IMG 20210213 181631
পুলিশের লাঠিপেটায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ পণ্ড
পুলিশের লাঠিপেটায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ পণ্ড হয়ে গেছে। এ সময় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের দুই দফা সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় সমাবেশ থেকে পুলিশ এখনো পর্যন্ত ১৮ জন বিএনপি নেতা-কর্মীকে আটক করেছে। এছাড়া বিএনপির নেতা–কর্মীদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের অন্তত আট সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মামুন অর রশীদ।

বিএনপির পক্ষ থেকে নেতা-কর্মীদের আটকের বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য জানানো হয়নি। তবে নয়াপল্টন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বিষয়ে বিএনপির বিকালে সংবাদ সম্মেলন করবে। সেখানে তাদের নেতা-কর্মীদের আটক ও আহতের বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে।

জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করছিলেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এ সময় সমাবেশকে কেন্দ্র করে জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় জলকামান ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রেসক্লাব এলাকা ও আশপাশের সড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়। এ সময় এই সড়ক ধরে সাধারণ মানুষকেও হেঁটে প্রবেশ করতে বাধা দেয়া হয়।

বেলা ১২টার দিকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বক্তব্য শেষ হওয়ার পরপরই পুলিশ এসে সমাবেশকারীদের সড়ক থেকে তুলে দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষ বাঁধে। পুলিশ লাঠিপেটা করলে জবাবে বিএনপি কর্মীরাও ইট ছোড়ে। এতে দুপক্ষের অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমানকে বীর উত্তম খেতাব দেয়া হয়। সংবিধান লঙ্ঘন, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের দেশত্যাগে সহায়তা এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের কারণে স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়ার রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)।

এরই প্রতিবাদে শনিবার ঢাকাসহ দেশের সব জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছিল বিএনপি। ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের যৌথ উদ্যোগে সমাবেশ শুরু হয় আজ সকালে। সমাবেশের শেষ পর্যায়ে কদম ফোয়ার দিক থেকে পুলিশ একযোগে সমাবেশের দিকে এগোতে থাকে। ফুটপাতের ওপর সমাবেশ মঞ্চের সামনে এসে বক্তৃতা বন্ধ করতে বলেই লাঠিপেটা শুরু করে পুলিশ। তবে সংঘর্ষের জন্য পরস্পরকে দায়ী করেছে বিএনপি ও পুলিশ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা চালিয়েছে। বিএনপির গণতান্ত্রিক অধিকারে আঘাত করা হয়েছে। সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা বক্তব্য দেন।

এ সময় সমাবেশে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়াসহ প্রমুখ নেতা উপস্থিত ছিলেন ।

গত মঙ্গলবার জামুকার ৭২তম সভায় জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি শরিফুল হক ডালিম, নূর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিনের রাষ্ট্রীয় খেতাবও বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

সভায় আরো সিদ্ধান্ত নেয়া হয় জিয়াউর রহমানসহ এই পাঁচজন এবং তাদের পরিবার মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য কোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন না।

বে অব বেঙ্গল নিউজ / BAY OF BENGAL NEWS


  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares