প্রাপ্তির তালিকায় যোগ হোক নিরবিচ্ছিন্ন জরুরী সড়ক ব্যবস্থা

প্রাপ্তির তালিকায় যোগ হোক নিরবিচ্ছিন্ন জরুরী সড়ক ব্যবস্থা
প্রাপ্তির তালিকায় যোগ হোক নিরবিচ্ছিন্ন জরুরী সড়ক ব্যবস্থা
মোনতাসির চৌধুরী মাহিয়ানঃ আসলাম উদ্দীন, একজন অবসরপ্রাপ্ত আমলা। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মরে গেছেন এম্বুলেন্সেই। সাধ ও সাধ্য দুটোই থাকলেও চিকিৎসা ছাড়াই আসলাম সাহেব চলে গেছেন ঢাকা শহরের তীব্র যানজটের কারণে। মারজিনা ইসলাম থাকেন চট্টগ্রামে। খুলশী এলাকায় রয়েছে তার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে তার প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ছাই হয়ে গেছে মারজিনা’র স্বপ্ন। দুটো ঘটনা’ই প্রতীকী গল্প হলেও যেকেউ অকপটে স্বীকার করবে- বাস্তবতা এরচেয়ে ভিন্ন কিছু নয়।

২০০৮ সাল থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আছেন। গত এক যুগে বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের তালিকা ক্ষুদ্র নয়। আর এসব পরিবর্তনগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে সড়ক পথের উন্নয়ন।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ যখন মসনদে বসে তখন বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিলো নাজুক। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণে অনেকদূর এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। গ্রামেগঞ্জে গেলেও এখন পিচঢালা রাস্তা চোখে পড়ে। যা এক সময় ছিলো অকল্পনীয়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেইনের মহাসড়ক হয়েছে। ঢাকা এবং চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় নির্মিত হচ্ছে উড়ালসেতু। ঢাকা-মাওয়া-ভাঙা এক্সপ্রেসওয়ে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে করেছে সহজতর। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন মেরিন ড্রাইভ রোড। চট্টগ্রামে নির্মিত হচ্ছে যুগান্তকারী বে-টার্মিনাল।

পদ্মা সেতু নির্মিত হচ্ছে দেশীয় অর্থায়নে; এই সেতু জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হলে বদলে যাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষের জীবন। নতুন গতি পাবে ব্যবসা বাণিজ্য। কর্ণফুলীর তলদেশে সরকার নির্মাণ করছে বঙ্গবন্ধু টানেল।

যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের অবতারণা একটি কারণে। কারণ বলবো; তার আগে মনে করিয়ে দিই একটি ঘটনা। ২০১৮ সালে স্কুল কলেজের কোমলমতি ছাত্ররা নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল। সেই আন্দোলন পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাতে চুরি হলেও সরকার বাস্তবিক প্রয়োজন বিবেচনা করে নতুন সড়ক আইন প্রণয়ন করে।

এই আন্দোলন চলাকালীন সময়ে রাস্তাঘাটে গাড়ি চলাচলে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হতে হলেও এম্বুলেন্স চলাচলে কোন বিঘ্ন ঘটে নাই। শিক্ষার্থীরা আলাদা লাইন করে এম্বুলেন্স চলাচলের ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই সময় এই দৃশ্য নজর কেড়েছিলো সবার। এমন বাংলাদেশ ই তো আমরা চাই। যেখানে তরুণ প্রজন্ম তাদের জ্ঞানকে কাজে লাগাবে রাষ্ট্রের গুণগত পরিবর্তনে। সরকারকে পরামর্শ দিবে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায়।

বাংলাদেশ এইট পাশ প্রধানমন্ত্রী’র কলঙ্ক থেকে মুক্ত হয়েছে। শেখ হাসিনা এই দেশকে ধীরে ধীরে মাথা তুলে দাঁড়ানোর পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছেন তাঁর ডাইনামিক নেতৃত্ব এবং নিরলস পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে। তিনি যেই রাষ্ট্রের প্রধান সেই রাষ্ট্রে যানযটে আটকা পড়ে বিনা চিকিৎসায় এম্বুলেন্সেই ধুকে ধুকে মানুষ মরে যাবে এটা মানা যায় না। শেখ হাসিনা মানুষের জন্য করেন। তাই তাঁর কাছে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষাও বেশী হওয়াটাই স্বাভাবিক। মানুষ আশা করে যা অন্যের আমলে হয়েছে তা তাদের প্রাণের নেত্রী শেখ হাসিনার আমলেই বিলুপ্ত হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আমাদের দুহাত ভরে দিয়েছেন। আরেকটু চাই আপনার কাছে। যানজটমুক্ত, নিরবিচ্ছিন্ন জরুরী সড়ক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আমাদের দুহাত ভরে দিয়েছেন। আরেকটু চাই আপনার কাছে। যানজটমুক্ত, নিরবিচ্ছিন্ন জরুরী সড়ক ব্যবস্থা জন্য একটি জরুরী সড়ক লাইনের ব্যবস্থা করলে বাংলাদেশ সড়কপথে অনেকদূর এগিয়ে যাবে। তাই জরুরী যান চলাচলের জন্য একটি সড়ক নেটওয়ার্ক তৈরীর আর্জি জানাই আপনার কাছে। আমরা বিশ্বাস করি একদিন আপনার হাত ধরেই এই চমকপ্রদ পরিবর্তনের সাক্ষী হবে বাংলাদেশ।
বে অব বেঙ্গল নিউজ / bay of bengal news