চট্টগ্রামে ১ম বারের মত ৫ দিনব্যাপী জাতীয় পিঠা উৎসবের উদ্ভোদন

বাঙ্গালির ঐতিহ্য পিঠা পার্বণ। পিঠা বাংলার নিজস্ব আদিম আভিজাত্যপূর্ণ খাদ্যদ্রব্য। এই পিঠা নিয়ে চট্টগ্রামে প্রথম বারের মত আয়োজিত হলো জাতীয় পিঠা উৎসব (২০২১)। এর আগে ঢাকা, রাজশাহী ও সিলেটে এই জাতীয় উৎসব আয়োজিত হলেও চট্টগ্রামে জাতীয় পিঠা উৎসবের আয়োজন এই প্রথম।
চট্টগ্রামে ১ম বারের মত ৫ দিনব্যাপী জাতীয় পিঠা উৎসবের উদ্ভোদন
চট্টগ্রামে ১ম বারের মত ৫ দিনব্যাপী জাতীয় পিঠা উৎসবের উদ্ভোদন

বুধবার চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের প্রশিক্ষণ মাঠে শুরু হয় পাঁচ দিনব্যাপী জাতীয় পিঠা উৎসব ২০২১। আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিৎ ছিলেন সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী কে. এম. খালিদ। প্রতিমন্ত্রী বেলুন উড্ডয়নের মাধ্যমে বিকেল ৫ঃ৩০ মিনিটে আয়োজনের শুভ উদ্ভোদন করেন।

আরও উপস্থিত ছিলেন চসিক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করীম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, নাট্যজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ম. হামিদ।

সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী কে. এম. খালিদ বলেন, “ছোট বেলায় পিঠা বানাতাম। পিঠা আমার খুব প্রিয় খাবার। আমি আমার মায়ের সাথে ছোট বেলায় পুলি পিঠা বানাতাম। আমি খুব সুন্দরভাবে পুলি পিঠা বানাতে পারতাম।”

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা অনেক দিন ধরে চেয়েছিলাম জাতীয় পিঠা উৎসব হউক। সিজেকেএস এই ক্ষেত্রে আমাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। আমরা আ জ ম নাছির উদ্দীনের কাছে সহযোগিতা চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সহযোগিতা পেয়েছি। এজন্য আয়োজনে সহযোগিতাকারী সকলের কাছে আমি ধন্যবাদ জানাই।”

চসিক মেয়র রেজাউল করিম বলেন, আজকের এই সুন্দর বিকেলে এমন একটি চমৎকার আয়োজনের জন্য আমি ধন্যবাদ জানাই যারা আয়োজকদের। পিঠা বাঙ্গালি জাতির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে জড়িত। বাংলাদেশের আনাচে কানাচে পিঠার ঐতিহ্য বিচিত্র ও দৃশ্যমান।

তিনি আরও বলেন, কালজয়ী এই মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙ্গালি জাতি সাধীনতা অর্জন করেছেন, তারই রূপ রেখায় বঙ্গনন্ধু কণ্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল রাষ্ট্র থেকে উন্নত রাষ্ট্রের দিকে দূর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে।

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘ বাঙালি জাতি নিজস্ব সংস্কৃতি ও ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। কিন্তু নতুন প্রজন্ম ধীরে ধীরে সংস্কৃতি বিমুখ হয়ে পড়ছে। একসময় পিঠাপুলি জনপ্রিয় খাবার হলেও আজকালের ছেলেমেয়েরা ফাস্টফুড মুখী হয়ে পড়েছে।অথচ পিঠা একটি সুস্বাদু ও নির্ভেজাল খাবার। এটি বাঙালিয়ানার অংশ। তাই আমাদের এই সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে হবে। নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতি প্রেমী হিসেবে গড়ে তুলতে আজকের পিঠাপুলি উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই আমি এই আয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

নাট্যজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ম. হামিদ বলেন, চট্টগ্রাম আমার কাছে বিশেষ অর্থ বহন করে। কারণ আমি মাস্টারদা সূর্যসেন এর ইতিহাস দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। তাছাড়াও চট্টগ্রামের বিশিষ্ট জনদের সাথে আমার আত্মিক বন্ধন রয়েছে। সেই চট্টগ্রামে এমন একটি উৎসবের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পেরে আমি আনন্দিত। এভাবেই পিঠা উৎসব আবারও বাঙালি জাতির সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হবে- সেই আশা রাখি।

অতিথিদের বক্তব্য শেষে শুরু হয় মনোরম ও চোখ ধাধানো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী ও ক্ষুদে শিল্পীরা আবৃত্তি-ছড়া, গান ও নাচের মাধ্যমে মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা প্রদর্শন করেন।

এসময় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির সহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন জাতীয় পিঠা উৎসবের আয়োজকেরা।

Bay of Bengal news / বে অব বেঙ্গল নিউজ