আতঙ্কের জনপদ কোম্পানিগঞ্জ; পাঁচ শতাধিক পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন

আতঙ্কের জনপদ কোম্পানিগঞ্জ; পাঁচ শতাধিক পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন

আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ। একসময়ের সন্ত্রাসের উর্বর ভূমি হিসেবে পরিচিত নোয়াখালী দীর্ঘদিন শান্তির বার্তা বহন করলেও ফের উত্তপ্ত রূপ লাভ করেছে নানা রাজনৈতিক ঘটনা পরিক্রমায়।

আতঙ্কের জনপদ কোম্পানিগঞ্জ; পাঁচ শতাধিক পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন
আতঙ্কের জনপদ কোম্পানিগঞ্জ; পাঁচ শতাধিক পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন

গত ৯ মার্চ রাজনৈতিক বিরোধের জেরে ব্যাপক সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জে। এতে আলাউদ্দিন নামের একজন নিহত ও ১০ জন গুলিবিদ্ধ সহ প্রায় অর্ধশতাধিক লোক গুরুতর আহত হন। এই ঘটনার পরদিন বুধবার সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত  বসুরহাট পৌরসভা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন।

ইতিমধ্যে জরুরী অবস্থা জারির সময় পেরিয়ে গেলেও সকল ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে কোম্পানিগঞ্জের বসুরহাট পৌর এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসমূহে পুলিশ, র‍্যাব সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় পাঁচ শতাধিক সদস্য নিয়োজিত রয়েছে।

এদিকে বসুরহাট পৌরসভার সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনকালীন সময় থেকে নানা উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে নোয়াখালীর রাজনৈতিক অঙ্গনে। প্রায় বিভিন্ন সভা সমাবেশে উপস্থিত হয়ে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র কাদের মির্জা নির্বাচন ব্যবস্থা, নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী, ফেনীর সাংসদ নিজাম হাজারী সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে নেতিবাচক মন্তব্য করতে থাকেন। এমনকি তার বাক্যবাণ থেকে রেহায় পায়নি বড় ভাই, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, ওবায়দুল কাদেরের সহধর্মিণী, ফরিদপুর-৪ আসনের সাংসদ মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির সহ অনেকেই।

এসব মন্তব্যের পাল্টাপাল্টি জবাবের রেশে বিগত দুই মাস ধরে অস্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করছে নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জে। বিবাদমান দুই পক্ষের সংঘর্ষে গত মাসের শেষের দিকে নিহত হন সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মোজাক্কির। অভিযোগ আছে কাদের মির্জার সমর্থকদের হাতে লাঞ্চিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানও। এছাড়াও বিভিন্ন সময় সংঘাতে জড়িয়ে উভয়পক্ষের শতাধিক লোক আহত হন।

এসব ঘটনার জেরে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে থেকে কাদের মির্জার বিরোধী বলয়ের নেতৃত্বে থাকা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলকে আটক করা হয়। তবে কাদের মির্জার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া না হলেও পৌরসভায় তার অফিস ঘিরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা যায়।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের পক্ষ থেকে তিনটি এবং বিবাদমান পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে মোট ছয়টি মামলা রুজু হয়েছে স্থানীয় থানায়। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রায় পাঁচশোর অধিক নেতাকর্মীকে। এমতাবস্থায় ফের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কায় চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ জনগণের মনে।

bay of bengal news / বে অব বেঙ্গল নিউজ