এক রাতেই যেন কোম্পানীগঞ্জে অবস্থার পরিবর্তন | কাদের মির্জার শোডাউন

নোয়াখালীঃ নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বসুরহাটে এক রাতের ব্যবধানে পরিস্থিতির আকষ্মিক পরিবর্তন ঘটেছে।
এক রাতেই যেন  কোম্পানীগঞ্জে অবস্থার পরিবর্তন | কাদের মির্জার শোডাউন
এক রাতেই যেন অবস্থার পরিবর্তন | কাদের মির্জার শোডাউন | অতঃপর ফের অবরুদ্ধ

মঙ্গলবার সংষর্ষে হতাহতের ঘটনার পর থেকে পৌর ভবনে অবস্থানরত কাদের মির্জা। শুক্রবার সকালে প্রথমবারের মতো পৌরসভা ভবন থেকে বেরিয়ে ২০-৩০ জন নিজ অনুসারী নিয়ে পৌর এলাকায় শোডাউন করেছেন কাদের মির্জা। এরপর মেয়র একটি সামাজিক অনুষ্ঠানেও যোগ দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে বলছেন, বুধবার-বৃহস্পতিবার তার নিজ নেতাকর্মীদের মধ্যেও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ভ্রাতা কাদের মির্জা গ্রেফতার হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল।

কাদের মির্জার স্ত্রী ও আইনজীবী পৌর ভবনে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেও এসেছিলেন। গ্রেফতার হতে পারেন বলে তিনিও মানসিকভাবে অনেকটা প্রস্তুত ছিলেন।

কিন্তু এক রাতের ব্যবধানেই পাল্টে গেছে কোম্পানগঞ্জের চিত্র। কাদের মির্জার বিরুদ্ধে কোনো মামলাই রেকর্ড না করা এবং বিরোধী পক্ষে বাদলের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা নেয়ার নেপথ্যে কী আছে তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও একেক-রকম বিশ্লেষণ চলছে।

এদিকে বসুরহাটে আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই গ্রুপে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের ঘটনায় মামলাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

এ নিয়ে ভীতিকর পরিবেশ বিরাজ করছে পুরো কোম্পানীগঞ্জ পৌর এলাকা জুড়ে। উপজেলার ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে এসেছে মন্দা। এই ভীতিকর অবস্থা থেকে মুক্তি চান অত্র এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারের সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত সেতু মন্ত্রী ভ্রাতা কাদের মির্জার অনুসারীদের পক্ষ থেকে দুটি ও পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন একটি। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছেন ২৯ জন।

কোম্পানীগঞ্জ

আর অপরদিকে নিহত যুবলীগ কর্মী আলাউদ্দিনের ভাই এমদাদ হোসেন হত্যা মামলার এজাহার থানায় জমা দিলেও তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করেনি পুলিশ। এ নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে আছে কোম্পানিগঞ্জ। তবে মামলা রেকর্ড না করার বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি কোনো পুলিশ কর্মকর্তা।

এজাহারে কাদের মির্জাকে এক নম্বর, তার ভাই শাহাদাত হোসেনকে দু’নম্বর ও কাদের মির্জার ছেলে মাসরুক কাদেরকে তিন নম্বর আসামী করা হয়েছে। এছাড়া ১৬০ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি ৪০ জনকে অজ্ঞাত আসামী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে হত্যা মামলার এজাহার থেকে কাদের মির্জার নাম বাদ দেয়ার জন্যে বাদীকে মানসিক চাপ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অপরদিকে কোম্পানীগঞ্জ অচল করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন আরেকটি পক্ষ্য বাদলের অনুসারী ও কাদের মির্জার বোনের ছেলে মাহবুবুর রশীদ মঞ্জু।

নিয়ম অনুযায়ী কোম্পানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলকে শুক্রবার আদালতে হাজির করেছেন পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত বাদলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দুপুরে কোম্পানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বাদলকে জেলার এক নম্বর আমলে আদালতে জৈষ্ঠ বিচারিক হাকিম সাহাবুদ্দিন খানের আদালতে হাজির করা হয়।

আর এদিকে সংঘর্ষে জড়িতদের গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের ‘সাঁড়াশি’ অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা যায়।

কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টায় পুলিশ নতুন করে কাউকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হলেও ৭টি ককটেল ও বেশকিছু লাঠিসোটা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতার এড়াতে দু’গ্রুপের নেতাকর্মীরা অনেকেই আত্মগোপনে চলে গেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।

এদিকে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কাদের মির্জা পৌর ভবনে ফেরার পর ফের অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় ভবনের সামনে। এতে ধারণা করা যাচ্ছে আপাতত কাদের মির্জা পৌর ভবনে পুলিশের কড়া পাহাড়ায় অবস্থান করছেন।

বে অব বেঙ্গল নিউজ / bay of bengal news