আসন্ন রমজান মাস, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে হতাশ জনসাধারণ

আসন্ন রমজান মাস, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে হতাশ জনসাধারণ
খুচরা পণ্যের বাজার

ঘনিয়ে আসছে রমজান মাস। এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষ দিকে শুরু হতে পারে রোজা। এমন অবস্থায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির চড়া মূল্যে বিপাকে পড়তে হচ্ছে মধ্য ও নিম্নবিত্ত মানুষের। রমজান মাসকে ঘিরে পণ্যমূল্য আরো বাড়তে পারে বলে চিন্তিত ভোক্তারা।

শনিবার খুচরা বাজারে সরেজমিনে দেখা যায় প্রায় প্রতিটি খাদ্যদ্রব্যের মূল্য উর্ধ্বমুখী। এক কেজি আতপ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬৫ টাকায়। এক বস্তা চাল নিকট অতীতে যেখানে বিক্রি হতো ২১০০-২৩০০ টাকায় তার মূল্য বর্তমানে ৩২০০ টাকা।

সপ্তাহের ব্যবধানে ২ টাকা বেশী মূল্যে চিনি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৮ টাকায়। তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে লিটার প্রতি ৪-৫ টাকা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মুড়ি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায় যা গত সপ্তাহের তুলনায় ২ থেকে ৩ টাকা বেশী।

এদিকে পিয়াজের দাম কিছুটা কমলেও বৃদ্ধি পেয়েছে রসুন সহ অন্যান্য মশলা জাতীয় দ্রব্যের মূল্য। রসুনের মূল্য ৭০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০ টাকায়। এক প্যাকেট ডানো ফুলক্রিম দুধ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়।

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ে প্রশ্ন করলে বেশীরভাগ বিক্রেতা একই জবাব দেন। বিক্রেতারা জানান, ‘পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে খুচরা ব্যবসায়ীদের কোন হাত নেই। যদি আমরা পাইকারি বাজার থেকে কম দামে ক্রয় করতে পারতাম মানুষকে সুলভ মূল্যে বিক্রি করতে অসুবিধে হতো না। কিন্তু আমাদেরই কেনা রেট বেশী। তাই বাধ্য হয়ে বেশী দামে বিক্রি করতে হয়।’

অন্যদিকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের এমন চড়া দামে ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ মানুষ। এ বিষয়ে কয়েকজন ক্রেতা বলন, ‘জিনিসপত্রের প্রতিনিয়ত বাড়ছে, কিন্তু আমাদের আয় তো বাড়ে না। সামনে রমজান মাস। আমরা বাঁচবো কি করে বলেন? আমরা এভাবে জীবনধারণ করবো কিভাবে, আর পরিবার পরিজনকে খাওয়াবো কি?’

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধও জানান ভোক্তারা। নিয়মিত বাজার মনিটরিং এর মাধ্যমে মূল্য নিয়ন্ত্রণ সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.