আমাদের আর পিছনে ফিরে তাকাবার সুযোগ নেই । মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ আজ যে অবস্থানে পৌঁছেছে ওখান থেকে সহজে নামানো যাবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখন আমাদের শুধু সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা। আমাদের আর পিছনে ফিরে তাকাবার সুযোগ নেই।
আমাদের আর পিছনে ফিরে তাকাবার সুযোগ নেই । মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী
আমাদের আর পিছনে ফিরে তাকাবার সুযোগ নেই । মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

বুধবার (১৭ মার্চ) বিকেলে মুজিববর্ষ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকল বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে এই দেশকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শোষণ-বঞ্চনামুক্ত, ক্ষুধা, দারিদ্র্য-নিরক্ষরতামুক্ত, অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ হিসেবে আমরা প্রতিষ্ঠা করবোই, ইনশাআল্লাহ।

সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতা ও বাংলাদেশ বিরোধী অপশক্তি এখনো দেশে-বিদেশে সক্রিয় রয়েছে। তারা নানা অপতৎপরতার মাধ্যমে আমাদের দেশের এই অর্জনকে নস্যাৎ করতে চায়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ১০১ তম শুভ জন্মদিনে আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে সকল অপতৎপরতাকে প্রতিহত করে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে উন্নয়ন-অগ্রগতির পথ ধরে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়।

বাংলাদেশের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চিত্র তুলে ধরে তিনবারের সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বলেন, আজ বাংলাদেশ যে অবস্থানে পৌঁছেছে, ওখান থেকে তাকে সহজে নামানো যাবে না। এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো- আমরা এই করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে আমাদের দেশের ও বিশ্বের উপর দিয়ে অতিক্রম করা, অভিঘাত সফলভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি। তবে আমাদের সকলেরই সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে সবদিকে।

শেখ হাসিনা বলেন, এদেশের জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তির প্রতীক্ষার প্রহর আজ অবসান হতে চলেছে। আজ আমরা এমন এক সময়ে জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে চলেছি, যখন বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হওয়ার চূড়ান্ত সুপারিশ অর্জন করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় সম্মানজনক দুই হাজার মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে; দরিদ্র্য মানুষের হার ২০.৫ শতাংশে নিমজ্জিত হয়েছে; দেশ খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ং-সম্পূর্ণ হয়েছে; দেশের মানুষের গড় আয়ু ৭৩ বছরে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া আর্থ-সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ অনেক উন্নয়ন সাধন করেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত ১২ বছরের নিরলস প্রচেষ্টা ও জনগণের অক্লান্ত ও ঐকান্তিক পরিশ্রমের ফসল আজকের এই পাওয়া।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাঙালির রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ মাতৃভাষার মর্যাদা অর্জনের যে সংগ্রাম শুরু করেছিলেন সে ধারাবাহিক সংগ্রামের সাফল্যের ফসলই আমাদের স্বাধীনতা।

শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধ-বিধস্ত দেশ, তার উপর শত শত বছরের পরাধীনতার গ্লানি। শোষণ, বঞ্চনা, ক্ষুধা, দারিদ্র্য-পীড়িত মানুষের এ জনপদকে একটা পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার মতো কঠিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে। অসাধ্য সাধন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

বে অব বেঙ্গল নিউজ / bay of bengal news

Leave a Reply

Your email address will not be published.