নয়ন বাদলে অনন্ত বিদায় জনতার মিন্টু’র

নয়ন বাদলে অনন্ত বিদায় জনতার মিন্টু'র
প্রয়াত সাইয়্যেদ গোলাম হায়দার মিন্টু

চসিকের ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডের সাত বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর সাইয়্যেদ গোলাম হায়দার মিন্টুকে অশ্রুসজল চোখে শেষ বিদায় জানিয়েছেন তার এলাকাবাসীরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) রাত আটটায় চট্টগ্রাম কলেজের হোস্টেলের পাশের প্যারেড ময়দানে প্রয়াত জনপ্রতিনিধি মিন্টুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে তাকে মিসকিন শাহ মাজারস্থ কবরস্থানে দাফন করা হয়।

জানাজায় দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন বিভিন্ন মহলের লোকজন। শরীক হন স্থানীয় রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী, ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবি থেকে শুরু করে মুদি দোকানদার ও পরিচ্ছন্ন কর্মী পর্যন্ত দলমত নির্বিশেষে সকল স্থরের মানুষ। এসময় তিল ধারণের স্থান ছিলো না প্যারেড ময়দানে।

‘পরোপকারী, সাদাসিধা জীবনাচরণে অভ্যস্ত মিন্টু ছিলেন একেবারে নিরীহ প্রকৃতির একজন মানুষ। তিনি ছিলেন গান্ধীর প্রবল ভক্ত। অহিংসামন্ত্র’ই ছিলো তার পরম ধর্ম। নিজেকে সবসময় নিয়োজিত রাখতেন জনগণের সেবায়। আজকের যুগে এমন ব্যক্তিত্ব বিরল। তাই জনতার নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে ছুটে এসেছে তার এলাকাবাসী।’- এমন মন্তব্য করেন জানাজায় আসা লোকজন।

প্রসঙ্গত সাইয়্যেদ গোলাম হায়দার মিন্টু ১৯৭৭ সালে প্রথম জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন। এরপর থেকে জীবনযুদ্ধে অপরাজিত এক ক্ষণজন্মা রাজনীতিবিদ মিন্টু। চট্টগ্রামের দ্বিধাবিভক্ত রাজনীতি থেকে তিনি ছিলেন অনেকটুকু দূরে। সবসময় নিজের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন, সেখানকার মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন ছাড়া সমস্ত জীবন তাকে অন্যকিছু ভাবতে দেখা যায় নাই।

সাত বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর। অথচ নিজের জন্য তেমন কিছুই করেন নাই। গতানুগতিক রাজনীতির বিপরীতে তিনি হেঁটেছেন জনবান্ধন রাজনীতির পথে। তাই শেষবিদায়ে গণমানুষের ভালবাসায় সিক্ত হওয়া ছিলো তার প্রাপ্য অধিকার।

এদিকে বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) ভোরে গোলাম হায়দার মিন্টু ঢাকার ইমপালস হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। একই দিন বিকেলে স্বজনরা তার মরদেহ নিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসেন এবং রাতে ধর্মীয় রীতিনীতি মোতাবেক মিসকিন শাহ মাজারের কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

বে অব বেঙ্গল নিউজ / bay of bengal news