বর্তমান বছরে হচ্ছে না সমাপনী পরীক্ষা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডিসেম্বরের শেষে বার্ষিক পরীক্ষা, সেপ্টেম্বরেও বন্ধ থাকছে স্কুল, শীতকালীন ছুটি বাতিল হবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে এ বছর হচ্ছে না প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা। পরীক্ষা না নেওয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন এই তথ্য জানান।

ছবি:সংগৃহীত


জাকির হোসেন বলেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ২০২০ সালের প্রাথমিক সমাপনী ও ইবতেদায়ি পরীক্ষা গ্রহণ না করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। তাই আমরা এ বছর এই দুটি পরীক্ষা নিচ্ছি না। যদি স্কুল খোলা যায় তাহলে বিভিন্ন পদ্ধতিতে স্কুলেই বার্ষিক পরীক্ষা নেব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমরা ক্ষতির মুখে ফেলতে চাই না। এ জন্য যা যা করা সম্ভব তা আমরা করব।’ এবার পিইসি পরীক্ষা হবে না বলে প্রাথমিকে বৃত্তিও দেওয়া হবে না বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।


বার্ষিক পরীক্ষার ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, ‘এটা স্কুল কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে, আমরা তাদের দায়িত্ব দেব। শিক্ষকরা যেভাবে প্রশ্ন করবেন সেভাবেই হবে, নিজ নিজ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এই সিদ্ধান্ত দেবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘যেহেতু সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি তাই অক্টোবর ও নভেম্বর মাস সামনে রেখে যে পাঠ পরিকল্পনা করা হয়েছে তার ভিত্তিতে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা নেবে স্কুলগুলো।’ তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবে খোলা হবে, সেই সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় একসঙ্গে বসে নেবে জানিয়ে গণশিক্ষা সচিব বলেন, ‘আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেব, কবে স্কুল খুলতে পারব।’


গত ৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পিইসি পরীক্ষা না নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। একই বৈঠকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা না নেওয়ার ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছিল। জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তবে জানা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দুই সপ্তাহের মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে।

এদিকে গতকাল এক ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বার্ষিক পরীক্ষার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করা গেলে পাঠক্রমের আরো ৪০ শতাংশ পড়ানো হবে। আর নভেম্বরে শুরু করা গেলে পড়ানো হবে ২৮ থেকে ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতি শুরুর আগে পাঠক্রমের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পড়ানো হয়েছে। আগের ও পরের পঠিত মোট পাঠক্রমের ওপর ডিসেম্বরের শেষের দিকে নেওয়া হবে বার্ষিক পরীক্ষা। সেই অনুযায়ী সিলেবাস পরিমার্জন করার কাজও শেষ হয়েছে। পরিকল্পনায় ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে শ্রেণি কার্যক্রম শেষ করার প্রস্তাব আছে।


এ ছাড়া চলতি বছর স্কুল খোলা হলে শীতকালীন ছুটি বাতিল করা হবে। সূত্র জানায়, এ বিষয়ে ‘পরিমার্জিত পাঠ পরিকল্পনা ২০২০’ নামের কর্মসূচি শিগগিরই পরিপত্র আকারে জারি করবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর সেপ্টেম্বরের শুরুতে শিক্ষকরা প্রয়োজনে তা শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করবেন।

রুউ/বিবিএন/স্টাফ রিপোর্টার


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published.